ডিজিটাল ভবিষ্যতের পথে বাংলাদেশ–রাশিয়া: মস্কোর গ্লোবাল ডিজিটাল ফোরামে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার

১১১ দেশের অংশগ্রহণে প্রযুক্তির বৈশ্বিক সম্মেলন • বাংলাদেশের ১৯ সদস্যের প্রতিনিধিদল • শিক্ষা, গবেষণা ও আইটি সহযোগিতায় নতুন দিগন্ত, মস্কো থেকে ডিজিটাল সহযোগিতার নতুন বার্তা..

ডিজিটাল প্রযুক্তি আজ আর কেবল যোগাযোগ কিংবা ব্যবসার মাধ্যম নয়; এটি অর্থনীতি, শিক্ষা, প্রশাসন, গণমাধ্যম, উদ্ভাবন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার অন্যতম চালিকাশক্তি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সাইবার নিরাপত্তা, ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থাকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে যখন নতুন সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে, তখন বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা সম্প্রসারণের ক্ষেত্রেও উন্মোচিত হচ্ছে নতুন দিগন্ত।

এই প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার রাজধানী মস্কোয় ৮ থেকে ১০ অক্টোবর ২০২৬ অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় গ্লোবাল ডিজিটাল ফোরাম ২০২৬ আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন হিসেবে বিশেষ তাৎপর্য বহন করেছে। বিশ্বের ১১১টি দেশের বিশেষজ্ঞ, প্রযুক্তি উদ্যোক্তা, শিক্ষাবিদ, সরকারি প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এই ফোরামে বাংলাদেশের ১৯ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল যোগ দেয়। বৈশ্বিক প্রযুক্তি আলোচনায় বাংলাদেশের তরুণ উদ্যোক্তা, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ এবং রুশ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতার উদ্যোগ দুই দেশের সম্পর্কের নতুন সম্ভাবনাকে সামনে নিয়ে এসেছে।

‘Communicate. Connect. Create.’—এক মঞ্চে বিশ্বের ডিজিটাল ভবিষ্যৎ

‘Communicate. Connect. Create.’—অর্থাৎ যোগাযোগ, সংযোগ ও সৃষ্টি—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজন করা হয় গ্লোবাল ডিজিটাল ফোরাম। এর লক্ষ্য ছিল সরকার, আন্তর্জাতিক সংস্থা, তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, প্রযুক্তি সম্প্রদায়, শিক্ষাবিদ ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের একত্র করে ডিজিটাল ভবিষ্যৎ নিয়ে উন্মুক্ত আলোচনা ও সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি করা।

রুশ ফেডারেশন সরকার, ডিজিটাল উন্নয়ন, যোগাযোগ ও গণমাধ্যম মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় ফোরামটির আয়োজন করে ‘ন্যাশনাল প্রায়োরিটিজ’ এবং ‘সেন্টার ফর গ্লোবাল আইটি কোঅপারেশন’। মস্কো সরকার ছিল আয়োজনটির জেনারেল পার্টনার এবং পিএসবি ব্যাংক কৌশলগত অংশীদার।

রাশিয়ার বৃহত্তম তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক আয়োজন ‘ডিজিটাল সলিউশনস’-এর অংশ হিসেবে মস্কোর গোর্কি পার্কের ‘মেচতা’ ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হয় ফোরামটি। এর প্রথম আসর অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০২৫ সালের ৫ ও ৬ জুন, নিঝনি নভগরদে।

ফোরামের মূল দর্শন ছিল পারস্পরিক আস্থা, সম্মান ও সমান সুযোগের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক ডিজিটাল সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়া। প্রযুক্তির উন্নয়ন যেন কেবল কয়েকটি দেশ বা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও উদ্ভাবনের বিনিময়ের মাধ্যমে আরও বিস্তৃত আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব গড়ে ওঠে—এমন লক্ষ্যই আয়োজনটির আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে।

তিন দিনে ৬০টির বেশি অধিবেশন, অংশগ্রহণ ১১১ দেশের

আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিন দিনের ফোরামে ৬০টিরও বেশি অধিবেশনে গোলটেবিল আলোচনা, বক্তৃতা, কর্মশালা ও উপস্থাপনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ১১১টি দেশের ৭৩০ জন বিশেষজ্ঞসহ ১ হাজার ৩০০-এর বেশি অতিথি অংশ নেন। উপপ্রধানমন্ত্রী, ডিজিটাল উন্নয়নমন্ত্রী এবং আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সংস্থার প্রধানসহ ৭০ জনেরও বেশি উচ্চপদস্থ রুশ ও আন্তর্জাতিক কর্মকর্তা বক্তব্য দেন।

ফোরামের আলোচনায় উঠে আসে ডিজিটাল প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু বিষয়। এর মধ্যে ছিল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বৈশ্বিক নীতিমালা, ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব, শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা, এআইয়ের নৈতিক ব্যবহার, স্মার্ট সিটি, সাইবার নিরাপত্তা, ডিজিটাল শিক্ষা এবং গণমাধ্যমের ভবিষ্যৎ।

প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের যুগে এসব বিষয় এখন বিশ্বের প্রায় সব দেশের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। এআইয়ের ব্যবহার যেমন উৎপাদনশীলতা ও উদ্ভাবনের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করছে, তেমনি তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, অনলাইন নিরাপত্তা এবং দায়িত্বশীল প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রশ্নও সামনে আনছে। ফলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অভিজ্ঞতা বিনিময় ও নীতিগত সংলাপের প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে।

আয়োজকদের তথ্য অনুসারে, ফোরামের ফাঁকে ১৫০টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয় এবং দুই শতাধিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এসব উদ্যোগ আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি সহযোগিতা, ব্যবসায়িক যোগাযোগ এবং প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারত্ব সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি করেছে।

বৈশ্বিক প্রযুক্তি মঞ্চে বাংলাদেশের ১৯ সদস্যের প্রতিনিধিদল

গ্লোবাল ডিজিটাল ফোরামে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ ছিল বহুমাত্রিক। তথ্যপ্রযুক্তি উদ্যোক্তা, শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও শিক্ষা পেশাজীবীদের সমন্বয়ে গঠিত ১৯ সদস্যের প্রতিনিধিদল ফোরামে অংশ নেয়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে প্রতিনিধিদলের সদস্যদের বিমান টিকিট, আবাসন এবং ভিসা ব্যয়ের সহায়তা দেওয়া হয়।

বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলে ছিলেন—মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন মুন্না, অঞ্জন চন্দ্র দাস, মোহাম্মদ সাবের শাহ, মো. শাহরিয়ার আজাদ ইভান, জান্নাতুল ফেরদৌস লুফিন, জান্নাতুল মাওয়া মিম, রাসেদুল হক, খান মোহাম্মদ নাকিব, রাহাত উদ্দিন, মো. আব্দুর রশীদ সোহাগ, মামুন শেখ, মো. এনামুল হক, গোলাম কিবরিয়া, মো. আবু বকর সিদ্দিক, মো. সাদ্দাম হোসেন রনি, এসএম সজিবুল ইসলাম, মোহাম্মদ ফয়সল আকবর, মাজাদুর রহমান রবিন এবং আমজাদ হোসেন সামিম।

এই অংশগ্রহণের গুরুত্ব শুধু একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে উপস্থিত থাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম ও প্রযুক্তি পেশাজীবীদের জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সরাসরি পরিচিত হওয়া, নতুন ধারণা সম্পর্কে জানা, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার যোগাযোগ গড়ে তোলার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

আন্তর্জাতিক আলোচনায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিদের বক্তব্য

ফোরামের বিভিন্ন অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিরাও আলোচক হিসেবে অংশ নেন। ৮ অক্টোবর অনুষ্ঠিত ‘The Value of a Name: Domain as a Digital Asset’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনায় ডায়ানাহোস্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খান মোহাম্মদ নাকিব বক্তব্য রাখেন।

ডিজিটাল অর্থনীতিতে ডোমেইন নামের গুরুত্ব, অনলাইন পরিচিতি এবং ডিজিটাল সম্পদ হিসেবে এর মূল্য নিয়ে এ ধরনের আলোচনা প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসা ও উদ্যোক্তা উন্নয়নের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। বর্তমান সময়ে অনলাইন উপস্থিতি, ব্র্যান্ড পরিচিতি এবং ডিজিটাল অবকাঠামো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।

একই দিনে ‘Humans Need Humans: Trust in Media in the Age of AI’ শীর্ষক প্যানেলে ‘টক হোপ ইন্টিগ্রেটেড মডেল (THIM)’-এর স্বতন্ত্র গবেষক ও ডেভেলপার মো. সাদ্দাম হোসেন রনি আলোচক হিসেবে অংশ নেন।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রসারের সঙ্গে গণমাধ্যমে তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা, মানবিক বিচারবোধ এবং প্রযুক্তির দায়িত্বশীল ব্যবহারের প্রশ্ন ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। এআইনির্ভর কনটেন্ট তৈরির সুযোগ বাড়লেও ভুল তথ্য শনাক্তকরণ, উৎস যাচাই এবং মানুষের আস্থা বজায় রাখার বিষয়গুলো নতুন করে বিবেচনার দাবি রাখে। এ ধরনের আন্তর্জাতিক আলোচনায় বাংলাদেশি প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ দেশের প্রযুক্তি ও জ্ঞানভিত্তিক সক্ষমতা তুলে ধরার সুযোগ সৃষ্টি করেছে।

সরকারি ও কূটনৈতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের উপস্থিতি

গ্লোবাল ডিজিটাল ফোরামে বাংলাদেশ থেকে আরও উপস্থিত ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, এমপি; মস্কোয় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত মো. নজরুল ইসলাম; এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মুহাম্মদ মুখলেসুর রহমান।

সরকারি, কূটনৈতিক ও বেসরকারি পর্যায়ের প্রতিনিধিদের উপস্থিতি আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি সহযোগিতার আলোচনায় প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগের গুরুত্বকে তুলে ধরে। প্রযুক্তি খাতে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে নীতিনির্ধারক, উদ্যোক্তা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গবেষকদের মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন। এ ধরনের সম্মেলন সেই সমন্বয়ের জন্য একটি আন্তর্জাতিক পরিসর তৈরি করে।

শিক্ষা, গবেষণা ও প্রযুক্তিতে সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনা

ফোরামের সময় বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে রুশ সংস্থাগুলোর সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরের কথা জানা গেছে। এসব সমঝোতার আওতা ও বাস্তবায়ন-পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত হলে সহযোগিতার সম্ভাব্য ক্ষেত্রগুলো আরও স্পষ্ট হবে।

তবে এ ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তি, উচ্চশিক্ষা, গবেষণা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং জ্ঞান বিনিময়ের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে তরুণদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধি, যৌথ প্রশিক্ষণ, শিক্ষার্থী বিনিময়, গবেষণা সহযোগিতা এবং উদ্ভাবনী উদ্যোগের বিকাশে এ ধরনের যোগাযোগ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

বাংলাদেশের জন্য এখন গুরুত্বপূর্ণ হলো আন্তর্জাতিক সম্মেলনে গড়ে ওঠা যোগাযোগগুলোকে বাস্তব কর্মসূচিতে রূপ দেওয়া। সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর যৌথ কর্মপরিকল্পনা, দায়িত্ব বণ্টন, বাস্তবায়নের সময়সীমা এবং ফলাফল মূল্যায়নের ব্যবস্থা থাকলে সহযোগিতার সুফল আরও কার্যকরভাবে পাওয়া সম্ভব।

একই সঙ্গে ডিজিটাল প্রযুক্তির ক্ষেত্রে দেশের নিজস্ব চাহিদা, দক্ষ জনশক্তি তৈরি, তথ্যের নিরাপত্তা, গবেষণার সক্ষমতা এবং প্রযুক্তির নৈতিক ব্যবহারের বিষয়গুলোও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

বাংলাদেশের তরুণদের জন্য বৈশ্বিক সংযোগের সুযোগ

বর্তমান বিশ্বে প্রযুক্তিগত দক্ষতা, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ এবং বহুমাত্রিক জ্ঞান অর্জন তরুণদের কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। গ্লোবাল ডিজিটাল ফোরামের মতো আয়োজন তরুণদের সামনে প্রযুক্তির নতুন প্রবণতা সম্পর্কে জানার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পেশাজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের সুযোগ তৈরি করে।

বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের বিকাশ, ফ্রিল্যান্সিং, সফটওয়্যার উন্নয়ন, ডিজিটাল সেবা, সাইবার নিরাপত্তা এবং এআইনির্ভর উদ্ভাবনের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা বিনিময় সহায়ক হতে পারে। তবে এসব সুযোগকে টেকসই অর্জনে পরিণত করতে দেশের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণব্যবস্থার আধুনিকায়ন, গবেষণায় বিনিয়োগ এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যকর সংযোগ প্রয়োজন।

বিশেষত শিক্ষার্থী ও তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ তখনই দীর্ঘমেয়াদি মূল্য তৈরি করবে, যখন তাঁরা অর্জিত জ্ঞান নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে প্রয়োগ করতে পারবেন এবং নতুন প্রকল্প, গবেষণা কিংবা ব্যবসায়িক উদ্যোগের মাধ্যমে তার সুফল ছড়িয়ে দিতে পারবেন।

সামনে এগোনোর পথ: যোগাযোগ থেকে কার্যকর অংশীদারত্ব

গ্লোবাল ডিজিটাল ফোরাম ২০২৬ বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে প্রযুক্তি ও জ্ঞান বিনিময়ের নতুন সম্ভাবনা তুলে ধরেছে। ১১১ দেশের অংশগ্রহণ, বিভিন্ন বিষয়ে আন্তর্জাতিক আলোচনা এবং ফোরামের ফাঁকে চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে বৈশ্বিক ডিজিটাল সহযোগিতার বহুমাত্রিক চিত্র উঠে এসেছে।

বাংলাদেশের ১৯ সদস্যের প্রতিনিধিদলের অংশগ্রহণ, দুই বাংলাদেশি প্রতিনিধির প্যানেল আলোচনায় বক্তব্য এবং সরকারি ও কূটনৈতিক প্রতিনিধিদের উপস্থিতি এই আয়োজনকে বাংলাদেশের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ করেছে। এখন প্রয়োজন এই অভিজ্ঞতাকে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা, দক্ষতা উন্নয়ন, গবেষণা এবং উদ্ভাবনের বাস্তব কর্মসূচিতে রূপ দেওয়া।

প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যেতে হলে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক অংশীদারত্বের পাশাপাশি নিজস্ব প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, মানবসম্পদ এবং গবেষণার ভিত্তিও শক্তিশালী করতে হবে। রাশিয়ার সঙ্গে ডিজিটাল সহযোগিতার নতুন যোগাযোগ সেই বৃহত্তর লক্ষ্য অর্জনে একটি সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে।

ডিজিটাল ভবিষ্যৎ নির্মাণের মূল শক্তি শুধু প্রযুক্তি নয়—মানুষ, জ্ঞান, আস্থা ও সহযোগিতা। মস্কোর গ্লোবাল ডিজিটাল ফোরাম সেই বার্তাই নতুন করে সামনে এনেছে।

ভ্রমণডেস্ক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *