মালয়েশিয়া-বাংলাদেশ: নতুন যাত্রা, অভিন্ন বন্ধুত্ব

পর্যটন, শিক্ষা, সংস্কৃতি, স্বাস্থ্যসেবা ও মানুষে-মানুষে যোগাযোগের মাধ্যমে মালয়েশিয়া–বাংলাদেশ সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করছে MBTACN

Bridging People. Celebrating Culture. Inspiring Tourism.

ঢাকার আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকার অডিটোরিয়াম ছিল কানায় কানায় পূর্ণ। প্রতিটি আসন পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় অনেক অতিথিকে পেছনে ও হলের দুই পাশে দাঁড়িয়ে অনুষ্ঠান উপভোগ করতে হয়। মালয়েশিয়া–বাংলাদেশ বন্ধুত্বের এক আনন্দময় ও প্রাণবন্ত উদযাপনে সেখানে মিলিত হয়েছিলেন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ।

পরিবেশ ছিল উষ্ণ, প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর। পর্যটন, শিক্ষা, সংস্কৃতি, ব্যবসা, গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন পেশাজগতের মানুষ একত্রিত হয়ে এমন একটি আবহ তৈরি করেছিলেন, যা সদ্য আত্মপ্রকাশ করা Malaysia–Bangladesh Tourism, Arts & Cultural Network (MBTACN)-এর মূল দর্শনকেই প্রতিফলিত করে—সীমান্তের গণ্ডি পেরিয়ে মানুষকে কাছাকাছি আনা এবং অর্থবহ সম্পর্ক তৈরি করা।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি কেবল আরেকটি সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ছিল না। এটি ছিল পর্যটন, শিক্ষা, শিল্প, সংস্কৃতি, স্বাস্থ্যসেবা, ব্যবসা, যুবসমাজ, গবেষণা এবং মানুষে-মানুষে যোগাযোগের মাধ্যমে মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যে একটি বহুমাত্রিক সেতুবন্ধন গড়ে তোলার উচ্চাভিলাষী যাত্রার সূচনা।

এই উদ্যোগের কেন্দ্রে রয়েছেন MBTACN-এর Executive Chairman এবং Travel Magazine VROMON-এর Editor & Publisher আবু সুফিয়ান, যার সঙ্গে মালয়েশিয়ার সম্পর্ক গড়ে উঠেছে দীর্ঘ সময় ও অসংখ্য যাত্রার মধ্য দিয়ে।

আবু সুফিয়ানের কাছে MBTACN হলো একটি ব্যক্তিগত যাত্রাকে দুই দেশের অভিন্ন যাত্রায় রূপান্তর করার প্রয়াস।

অনুষ্ঠানে তিনি যে অনুভূতি ব্যক্ত করেন তা যেন এই উদ্যোগের মূল কথাই তুলে ধরে—

“আমার মালয়েশিয়া যাত্রা শুধু আমার যাত্রা হয়ে থাকা উচিত নয়। আসুন, এটিকে মালয়েশিয়া–বাংলাদেশের অভিন্ন যাত্রায় পরিণত করি।”

আলিয়ঁস ফ্রঁসেজে আনন্দময় সূচনা

আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকায় অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী আয়োজনটি নতুন উদ্যোগকে ঘিরে মানুষের প্রবল আগ্রহ ও উৎসাহের প্রতিফলন ঘটায়।

অতিথিদের উপস্থিতিতে অডিটোরিয়াম ছিল পরিপূর্ণ। সব আসন পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় বেশ কয়েকজনকে দাঁড়িয়ে অনুষ্ঠান উপভোগ করতে হয়। এই ব্যাপক উপস্থিতি উদ্যোগটির প্রতি মানুষের আগ্রহ এবং এর বিস্তৃত কর্মপরিসরের প্রতি প্রত্যাশাকে স্পষ্ট করে তোলে।

অনুষ্ঠানে পর্যটন, সংস্কৃতি, শিক্ষা, ব্যবসা, কূটনীতি, গণমাধ্যম ও সামাজিক উন্নয়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিনিধি অংশ নেন।

স্বাগত বক্তব্য দেন আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকার পরিচালক ফ্রাঁসোয়া শঁব্রো, আর অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন MBTACN-এর Senior Adviser মো. আবদুস সামাদ।

অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক ভার্চুয়াল অংশগ্রহণও ছিল। Tourism Malaysia-এর সাবেক Regional Director এবং MBTACN-এর founding member Syed Yahya Syed Othman মালয়েশিয়ার পুত্রজায়া থেকে ভিডিও বার্তার মাধ্যমে যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন।

এছাড়া এমবিটিএসিএন-এর ভাইস চেয়ারম্যান এবং ইন্টারস্পিড গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব আদনান করিম এবং একে ডিএন বাংলাদেশের কৌশলগত প্রতিনিধি হুসেইন হায়দারআলি জিওয়ানিবক্তব্য রাখেন।

বক্তাদের বৈচিত্র্য MBTACN-এর বিস্তৃত চরিত্রকেই তুলে ধরে। এটি কোনো একটি পেশা বা খাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশের বিভিন্ন জনগোষ্ঠী এবং সহযোগিতার ক্ষেত্রকে একসূত্রে যুক্ত করতে চায়।

মালয়েশিয়ার হাইকমিশনের উষ্ণ সমর্থনের বার্তা

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে মালয়েশিয়ার হাইকমিশনের উপস্থিতি ও বার্তা বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।

Guest of Honour হিসেবে বাংলাদেশে মালয়েশিয়ার হাইকমিশনের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স জনাব হাজওয়ান হাসনোলlউদ্যোগটির প্রতি উষ্ণ স্বাগত জানান এবং MBTACN প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়ার জন্য আয়োজকদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও প্রশংসা প্রকাশ করেন।

তিনি তাঁর বক্তব্যে জানান, মালয়েশিয়াসংক্রান্ত MBTACN-এর বিভিন্ন উদ্যোগ এবং মালয়েশিয়া–বাংলাদেশ বন্ধুত্বকে আরও শক্তিশালী করার কর্মসূচিতে মালয়েশিয়ার হাইকমিশনের সহযোগিতা ও সমর্থন থাকবে।

MBTACN পর্যটন, শিক্ষা, সংস্কৃতি, স্বাস্থ্যসেবা, ব্যবসা, যুবসমাজ, গবেষণা ও মানুষে-মানুষে যোগাযোগের মাধ্যমে দুই দেশকে আরও বিস্তৃতভাবে সংযুক্ত করতে চায়—তাই তাঁর এই বার্তা উদ্যোগটির জন্য বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ।

মালয়েশিয়ার কূটনৈতিক মিশনের এই উষ্ণ প্রতিক্রিয়া উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের ইতিবাচক পরিবেশকে আরও উৎসাহিত করে এবং MBTACN-এর সঙ্গে মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের ভবিষ্যৎ সহযোগিতার সম্ভাবনাকে আরও উজ্জ্বল করে।

পুত্রজায়া থেকে Syed Yahya Syed Othman-এর ভার্চুয়াল অংশগ্রহণসহ মালয়েশিয়ার বিভিন্ন ব্যক্তিত্ব ও পেশাজীবীর সম্পৃক্ততা উদ্যোগটির আন্তঃদেশীয় চরিত্রকে আরও স্পষ্ট করে তোলে।

উষ্ণতা ও আশাবাদে ভরা এক মিলনমেলা

কানায় কানায় পূর্ণ অডিটোরিয়ামটি এই নতুন যাত্রার সূচনার জন্য যেন ছিল একেবারে উপযুক্ত মঞ্চ।

উৎসাহ, উষ্ণতা ও বন্ধুত্বের আবহে অনুষ্ঠানটি এগিয়ে যায়। আসন না থাকায় অতিথিদের দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে—এমন দৃশ্য অনুষ্ঠানটিকে একদিকে যেমন আনুষ্ঠানিক, অন্যদিকে তেমনি প্রাণবন্ত ও মানবিক করে তুলেছিল।

বিভিন্ন পেশার মানুষ পরস্পরের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন, ভাবনা ভাগ করে নিয়েছেন এবং মালয়েশিয়া–বাংলাদেশ সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে তাঁদের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

ঢাকায় সরাসরি উপস্থিতি এবং মালয়েশিয়া থেকে ভার্চুয়াল অংশগ্রহণ অনুষ্ঠানটিকে একটি বিশেষ আন্তঃদেশীয় চরিত্র দিয়েছে। প্রতীকী অর্থে এটি সেই সংযোগকেই তুলে ধরেছে, যা MBTACN ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত করতে চায়।

অনুষ্ঠানের পরিবেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তাও দিয়েছে—অর্থবহ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক কেবল আনুষ্ঠানিক চুক্তির মাধ্যমে তৈরি হয় না। মানুষ যখন পরস্পরের সঙ্গে দেখা করে, কথা বলে, অভিজ্ঞতা ভাগ করে এবং একে অপরকে বোঝার চেষ্টা করে, তখনই সম্পর্ক আরও গভীর হয়।

উদ্যোগের পেছনে দীর্ঘ মালয়েশিয়া-যাত্রা

আবু সুফিয়ানের কাছে MBTACN-এর গল্প শুরু হয়নি এই নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে। এর শিকড় আরও গভীরে, আরও বহু বছর আগে।

দীর্ঘদিন ধরে মালয়েশিয়া তাঁর জীবনের একটি পুনরাবৃত্ত অধ্যায়। পেশাগত কাজ, পারিবারিক অবকাশ, একাডেমিক সম্পৃক্ততা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং পর্যটন—বিভিন্ন কারণে তিনি বহুবার দেশটি ভ্রমণ করেছেন।

প্রতিটি সফরে তিনি মালয়েশিয়া সম্পর্কে নতুন কিছু আবিষ্কার করেছেন—শুধু পর্যটন গন্তব্য নয়, বরং দেশটির মানুষ, সংস্কৃতি, সম্ভাবনা এবং দুই দেশের বন্ধুত্বের গভীর অর্থও।

ধীরে ধীরে মালয়েশিয়া তাঁর কাছে শুধু একটি পর্যটন গন্তব্য হয়ে থাকেনি।

এটি হয়ে উঠেছে বন্ধুত্ব, শিক্ষা, সৃজনশীলতা, পারিবারিক স্মৃতি এবং অর্থবহ মানবিক সম্পর্কের একটি স্থান।

তাঁর পরিবারও মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করেছে। ফলে মেডিকেল ট্যুরিজম সম্পর্কে তাঁর উপলব্ধি শুধু পেশাগত নয়, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাতেও সমৃদ্ধ।

তাই তিনি যখন স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে কথা বলেন, তখন তাঁর কথায় পেশাগত আলোচনার পাশাপাশি পারিবারিক অভিজ্ঞতাও প্রতিফলিত হয়।

তিনি যখন শিক্ষা নিয়ে কথা বলেন, তখন তার পেছনে রয়েছে মালয়েশিয়ার শিক্ষাবিদ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দীর্ঘদিনের যোগাযোগ।

তিনি যখন পর্যটনের কথা বলেন, তখন তার ভিত্তি বহুবারের মালয়েশিয়া ভ্রমণ।

আর যখন তিনি মালয়েশিয়া–বাংলাদেশ বন্ধুত্বের কথা বলেন, তখন তিনি কথা বলেন বহু বছরের সম্পর্ক ও বন্ধনের অভিজ্ঞতা থেকে।

যখন বন্ধুত্ব হয়ে ওঠে কূটনীতির শক্তি

MBTACN-এর অন্যতম কেন্দ্রীয় দর্শন হলো—দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক শুধু সরকার, আনুষ্ঠানিক বৈঠক কিংবা সম্মেলনকক্ষের মাধ্যমে গড়ে ওঠে না।

সম্পর্ক গড়ে ওঠে বন্ধুত্বের মাধ্যমেও।

দীর্ঘ সময়ে আবু সুফিয়ানের সঙ্গে মালয়েশিয়ার শিক্ষাবিদ, পেশাজীবী, কূটনীতিক, চিত্রশিল্পী, গায়ক, সুরকার, টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব, পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের মানুষের দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক তৈরি হয়েছে।

এই সম্পর্কগুলো তাঁকে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দিয়েছে।

একটি বন্ধুত্ব থেকে জন্ম নিতে পারে একাডেমিক সহযোগিতা।

একাডেমিক সহযোগিতা রূপ নিতে পারে প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারিত্বে।

প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারিত্ব সৃষ্টি করতে পারে শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন সুযোগ।

শিক্ষার্থী বিনিময় তৈরি করতে পারে আজীবনের বন্ধুত্ব।

আর সেই বন্ধুত্ব শেষ পর্যন্ত দুই দেশের সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে পারে।

এটাই সেই people-to-people diplomacy, যা MBTACN এগিয়ে নিতে চায়।

VROMON এবং মালয়েশিয়ার গল্প

লেখক, সাংবাদিক এবং Travel Magazine VROMON-এর Editor & Publisher হিসেবে আবু সুফিয়ানের পেশাগত কাজেও মালয়েশিয়ার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক প্রতিফলিত হয়েছে।

তাঁর নেতৃত্বে VROMON ঢাকায় মালয়েশিয়ার হাইকমিশনের সহযোগিতায় বিশেষ মালয়েশিয়া সংখ্যা প্রকাশ করেছে। এসব প্রকাশনায় মালয়েশিয়ার পর্যটন আকর্ষণ, বহুসাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, শিক্ষার সুযোগ, স্বাস্থ্যসেবা, খাদ্যসংস্কৃতি এবং দেশটির জীবন ও সমাজের নানা দিক তুলে ধরা হয়েছে।

এসব প্রকাশনা শুধু ভ্রমণবিষয়ক ম্যাগাজিন ছিল না।

এগুলো হয়ে উঠেছিল তথ্য, অনুপ্রেরণা ও কৌতূহলের সেতুবন্ধন।

VROMON মালয়েশিয়ার হাইকমিশনের সঙ্গে সহযোগিতায় একজন মালয়েশিয়ান চিত্রশিল্পীর শিল্পকর্ম নিয়ে একটি প্রদর্শনীরও আয়োজন করে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের দর্শকদের কাছে মালয়েশিয়ার ভিজ্যুয়াল আর্ট আরও কাছাকাছি আসে এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়ের আরেকটি পথ তৈরি হয়।

আবু সুফিয়ানের কাছে এটি ভ্রমণ সাংবাদিকতার শক্তিরই প্রমাণ—একজন ভ্রমণকারী কোনো দেশে পৌঁছানোর আগেই গল্পের মাধ্যমে সেই দেশকে আবিষ্কার করতে পারেন।

ভ্রমণকারী থেকে প্রচারক, এখন গবেষক

বছরের পর বছর ধরে আবু সুফিয়ান মালয়েশিয়াকে বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখেছেন।

তিনি ছিলেন একজন ভ্রমণকারী।

তিনি ছিলেন একজন পারিবারিক ভ্রমণকারী।

তিনি ছিলেন একজন লেখক ও গণমাধ্যমকর্মী।

তিনি ছিলেন পর্যটন প্রচারক।

তিনি ছিলেন একজন বন্ধু।

আর এখন তিনি একজন PhD researcher।

প্রতিটি পরিচয় তাঁকে মালয়েশিয়ার একটি ভিন্ন রূপ দেখিয়েছে।

ভ্রমণকারী গন্তব্যকে দেখেন।

লেখক গল্প বলেন।

গবেষক গভীর প্রশ্ন করেন।

বন্ধু মানুষকে আবিষ্কার করেন।

আর পরিবার তৈরি করে স্মৃতি।

এই বহুমাত্রিক অভিজ্ঞতাই তাঁর বিশ্বাসকে আরও দৃঢ় করেছে যে পর্যটন, শিক্ষা, সংস্কৃতি, স্বাস্থ্যসেবা, যুবসমাজ, গবেষণা, ব্যবসা এবং মানুষে-মানুষে যোগাযোগের মাধ্যমে মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশ আরও গভীর সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারে।

অভিজ্ঞতা, পেশাগত সম্পৃক্ততা এবং একাডেমিক অনুসন্ধানের এই মিলন থেকেই MBTACN-এর জন্ম।

MBTACN: শুধু পর্যটনের চেয়েও বেশি কিছু

যদিও পর্যটন MBTACN-এর অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু, এর দৃষ্টিভঙ্গি শুধু পর্যটন প্রচারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।

পর্যটনকে দেখা হচ্ছে আরও বিস্তৃত সম্পর্কের প্রবেশদ্বার হিসেবে।

পর্যটনের মাধ্যমে মানুষ মানুষের সঙ্গে পরিচিত হয়।

শিক্ষার মাধ্যমে মানুষ শেখে।

সংস্কৃতির মাধ্যমে মানুষ একে অপরকে বোঝে।

স্বাস্থ্যসেবার মাধ্যমে মানুষ একে অপরের পাশে দাঁড়ায়।

ব্যবসার মাধ্যমে নতুন সুযোগ তৈরি হয়।

যুব কর্মসূচির মাধ্যমে ভবিষ্যৎ নির্মিত হয়।

শিল্পের মাধ্যমে মানুষ নিজের পরিচয় প্রকাশ করে।

আর বন্ধুত্বের মাধ্যমে দুটি দেশ আরও কাছাকাছি আসে।

তাই MBTACN মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যে একটি বহুমাত্রিক সেতুবন্ধন গড়ে তুলতে চায়।

শিক্ষা: পেশাজীবী হওয়ার আগে শিশুরা বন্ধু হোক

শিক্ষা MBTACN-এর অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হয়ে উঠবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

সহযোগিতার সম্ভাব্য ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে শিক্ষার্থী বিনিময়, স্টাডি ট্যুর, একাডেমিক সফর, যৌথ গবেষণা, ইন্টার্নশিপ, পেশাগত প্রশিক্ষণ, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের সুযোগ এবং বিশ্ববিদ্যালয়-টু-ইউনিভার্সিটি অংশীদারিত্ব।

বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য একটি ধারণা হলো School Tourism।

বাংলাদেশের কোনো স্কুলের শিক্ষার্থীরা মালয়েশিয়া সফরে গিয়ে মালয়েশিয়ার স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয়, জাদুঘর, প্রযুক্তি কেন্দ্র, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান এবং পরিবেশভিত্তিক গন্তব্য পরিদর্শন করতে পারে।

একইভাবে মালয়েশিয়ার স্কুলশিক্ষার্থীরা বাংলাদেশে এসে নদী, বদ্বীপ, সুন্দরবন, ঐতিহ্য, ইতিহাস, কারুশিল্প, খাবার ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হতে পারে।

এই ধারণার মূল দর্শন অত্যন্ত সুন্দর—

“আমাদের শিশুরা পেশাজীবী হওয়ার আগে বন্ধু হয়ে উঠুক।”

আজকের স্কুলের বন্ধুত্ব আগামী দিনের একাডেমিক অংশীদারিত্ব, ব্যবসায়িক সম্পর্ক কিংবা পেশাগত সহযোগিতায় পরিণত হতে পারে।

ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে স্বাস্থ্যসেবা সহযোগিতা

স্বাস্থ্যসেবা MBTACN-এর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ।

আবু সুফিয়ানের নিজের পরিবার মালয়েশিয়ায় চিকিৎসা গ্রহণ করেছে। এই অভিজ্ঞতা দেশটির স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার প্রতি তাঁর উপলব্ধিকে আরও গভীর করেছে।

তাই MBTACN মেডিকেল ট্যুরিজম, হাসপাতাল-টু-হাসপাতাল অংশীদারিত্ব, চিকিৎসা পেশাজীবীদের বিনিময় এবং স্বাস্থ্যশিক্ষায় সহযোগিতা উৎসাহিত করতে চায়।

উদ্দেশ্য শুধু রোগীদের জন্য সেতু তৈরি করা নয়; চিকিৎসক, নার্স, গবেষক, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান এবং স্বাস্থ্য খাতের অন্যান্য পেশাজীবীদের মধ্যেও সংযোগ তৈরি করা।

বন্ধুত্বের হৃদয়ে সংস্কৃতি

সংস্কৃতিও MBTACN-এর অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হয়ে উঠবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশ—উভয় দেশই সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ। এই বৈচিত্র্য পারস্পরিক বোঝাপড়ার একটি শক্তিশালী উৎস হতে পারে।

প্রস্তাবিত সাংস্কৃতিক কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে মালয়েশিয়া–বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক উৎসব, শিল্প ও আলোকচিত্র প্রদর্শনী, চলচ্চিত্র উৎসব, সাহিত্য বিনিময়, সংগীত ও নৃত্যানুষ্ঠান, থিয়েটার, ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্প, ফ্যাশন, কুলিনারি ফেস্টিভ্যাল এবং যুব সাংস্কৃতিক বিনিময়।

নেটওয়ার্কটি বাংলাদেশে Malaysia Festival এবং মালয়েশিয়ায় Bangladesh Festival আয়োজনেরও পরিকল্পনা করছে।

এসব উৎসব শুধু বিনোদনের অনুষ্ঠান হবে না।

এগুলো হবে এমন প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ একে অপরের সঙ্গে দেখা করবে, অভিজ্ঞতা অর্জন করবে, শিখবে এবং সম্পর্ক তৈরি করবে।

প্রতিষ্ঠান, পেশাজীবী ও জনগোষ্ঠীর জন্য একটি নেটওয়ার্ক

MBTACN সরকার ও কূটনৈতিক মিশন, পর্যটন কর্তৃপক্ষ, বিশ্ববিদ্যালয় ও স্কুল, হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান, শিল্পী ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তা, যুব ও ক্রীড়া সংগঠন, গণমাধ্যম, ভ্রমণ ও আতিথেয়তা শিল্প, গবেষক, শিক্ষাবিদ এবং বিভিন্ন জনগোষ্ঠীকে একত্রিত করতে চায়।

উদ্দেশ্য হলো এমন একটি নেটওয়ার্ক তৈরি করা, যেখানে একটি দেশের একটি ধারণা অন্য দেশে পৌঁছাতে পারে।

একজন শিক্ষার্থী খুঁজে পেতে পারে একটি সুযোগ।

একজন শিল্পী খুঁজে পেতে পারেন একজন সহযোগী।

একজন পর্যটক খুঁজে পেতে পারেন একটি নতুন গন্তব্য।

একজন উদ্যোক্তা খুঁজে পেতে পারেন নতুন অংশীদার।

একজন গবেষক খুঁজে পেতে পারেন একজন সহকর্মী।

মানুষে-মানুষে কূটনীতির বাহন হিসেবে উৎসব

MBTACN-এর ভবিষ্যৎ অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে নিয়মিত মালয়েশিয়া–বাংলাদেশ উৎসব আয়োজন।

ঢাকায় একটি Malaysia Festival-এ মালয়েশিয়ার পর্যটন, শিক্ষা, খাবার, শিল্প, সংস্কৃতি, স্বাস্থ্যসেবা ও ব্যবসার সুযোগ তুলে ধরা যেতে পারে।

কুয়ালালামপুরে একটি Bangladesh Festival-এ বাংলাদেশের পর্যটন গন্তব্য, ঐতিহ্য, খাবার, কারুশিল্প, সংগীত, সাহিত্য, সৃজনশীল শিল্প এবং বিনিয়োগের সুযোগ তুলে ধরা যেতে পারে।

এ ধরনের অনুষ্ঠান তৈরি করতে পারে এক ভিন্ন ধরনের কূটনীতি।

যে কূটনীতি শুধু কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং পরিবার, শিক্ষার্থী, পর্যটক, শিল্পী, উদ্যোক্তা ও সাধারণ জনগোষ্ঠীও যার অংশীদার।

এটাই MBTACN যে people-to-people diplomacy বা মানুষে-মানুষে কূটনীতি এগিয়ে নিতে চায়, তার মূল দর্শন।

বন্ধুত্বের একটি আন্দোলন

আবু সুফিয়ানের আকাঙ্ক্ষা হলো MBTACN যেন শুধু একটি সংগঠন হয়ে না থাকে।

তিনি এটিকে একটি বন্ধুত্বের আন্দোলনে পরিণত করতে চান।

এমন একটি আন্দোলন, যেখানে শিক্ষার্থীরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মিলবে।

স্কুল মিলবে স্কুলের সঙ্গে।

বিশ্ববিদ্যালয় মিলবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে।

চিকিৎসক মিলবেন চিকিৎসকের সঙ্গে।

শিল্পী মিলবেন শিল্পীর সঙ্গে।

ব্যবসায়ী মিলবেন ব্যবসায়ীর সঙ্গে।

পর্যটন পেশাজীবীরা মিলবেন পর্যটন পেশাজীবীদের সঙ্গে।

তরুণরা মিলবে তরুণদের সঙ্গে।

এবং শেষ পর্যন্ত—

মানুষ মিলবে মানুষের সঙ্গে।

আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এই দর্শনের বাস্তব প্রতিফলন দেখা গেছে। বিভিন্ন পটভূমির মানুষ এক ছাদের নিচে উষ্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে একত্রিত হয়েছিলেন।

আমার যাত্রা থেকে আমাদের অভিন্ন যাত্রা

বহু বছর ধরে মালয়েশিয়ায় ভ্রমণের পর আবু সুফিয়ান মনে করেন, তাঁর সবচেয়ে মূল্যবান স্মৃতিগুলো আসলে মানুষকে ঘিরে।

যেসব বন্ধুর সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়েছে।

যেসব শিক্ষাবিদের কাছ থেকে তিনি শিখেছেন।

যেসব পেশাজীবীর সঙ্গে তিনি কাজ করেছেন।

যেসব মালয়েশিয়ান পরিবার ও জনগোষ্ঠীর সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়েছে।

আর যেসব মানুষ তাঁকে মালয়েশিয়াকে শুধু পর্যটন আকর্ষণের বাইরে গিয়ে বুঝতে সাহায্য করেছেন।

এখন তিনি সেই ব্যক্তিগত যাত্রাকে দুই দেশের অভিন্ন যাত্রায় রূপ দিতে চান।

বন্ধুত্বের যাত্রা।

শিক্ষার যাত্রা।

পর্যটনের যাত্রা।

সংস্কৃতির যাত্রা।

স্বাস্থ্যসেবার যাত্রা।

যুবসমাজের যাত্রা।

ব্যবসার যাত্রা।

আর সর্বোপরি—

মানুষে-মানুষে যোগাযোগের যাত্রা।

লেখার অপেক্ষায় মালয়েশিয়ার আরেক গল্প

মালয়েশিয়া-যাত্রা তাঁকে আরেকটি সাহিত্যিক প্রকল্পের অনুপ্রেরণাও দিয়েছে।

প্যারিস, লন্ডন, সিডনি ও স্পেনসহ বিভিন্ন গন্তব্যে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা থেকে বই লেখার পর আবু সুফিয়ান এখন, ইনশাআল্লাহ, মালয়েশিয়ার অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে আরেকটি বই প্রস্তুত করছেন।

প্রস্তাবিত বইটির নাম—

“DAYS AND NIGHTS IN MALAYSIA”

বইটি বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মানুষের মধ্যে আরেকটি ছোট সেতু হয়ে উঠবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে—যেখানে থাকবে দীর্ঘ ভ্রমণ, বন্ধুত্ব ও আবিষ্কারের মধ্য দিয়ে সঞ্চিত স্মৃতি ও গল্প।

ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে প্রাতিষ্ঠানিক দর্শন

MBTACN-এর পেছনে রয়েছে কিছু মৌলিক প্রশ্ন।

একজন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী কীভাবে মালয়েশিয়ায় নতুন সুযোগ আবিষ্কার করতে পারে?

মালয়েশিয়ার শিক্ষার্থীরা কীভাবে বাংলাদেশকে আবিষ্কার করতে পারে?

স্কুলগুলো কীভাবে বন্ধুত্বের কর্মসূচি গড়ে তুলতে পারে?

বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কীভাবে সহযোগিতা করতে পারে?

পর্যটন সংস্থাগুলো কীভাবে একসঙ্গে কাজ করতে পারে?

হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা পেশাজীবীরা কীভাবে সংযুক্ত হতে পারেন?

শিল্পী ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা কীভাবে সহযোগিতা করতে পারেন?

উদ্যোক্তারা কীভাবে নতুন সুযোগ আবিষ্কার করতে পারেন?

তরুণরা কীভাবে একে অপরের সঙ্গে দেখা করে, শিখে এবং একসঙ্গে নতুন কিছু সৃষ্টি করতে পারে?

আর উৎসব কীভাবে সাধারণ মানুষকে দুই দেশের সংস্কৃতি, খাবার, পর্যটন ও সৃজনশীলতার সঙ্গে পরিচিত করাতে পারে?

MBTACN-কে এসব প্রশ্নের একটি সম্ভাব্য উত্তর হিসেবে কল্পনা করা হয়েছে।

শেষ নয়, এটি কেবল শুরু

আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকায় অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি এই উদ্যোগের অন্তর্নিহিত চেতনার একটি ঝলক দেখিয়েছে।

কানায় কানায় পূর্ণ অডিটোরিয়াম।

চেয়ার না থাকায় দাঁড়িয়ে থাকা অতিথি।

সরাসরি ও ভার্চুয়ালি যুক্ত হওয়া বক্তারা।

বিভিন্ন পেশা ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের প্রতিনিধিরা।

একটি আনন্দময় পরিবেশ।

আর সর্বোপরি—মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশকে আরও কাছাকাছি আনার অভিন্ন আকাঙ্ক্ষা।

অনুষ্ঠানটি দেখিয়েছে, মানুষে-মানুষে যোগাযোগ কোনো বিমূর্ত ধারণা নয়। এর শুরু হতে পারে একটি কক্ষে মানুষের সমবেত হওয়া, গল্প ভাগ করে নেওয়া, অভিন্ন আগ্রহ আবিষ্কার করা এবং একসঙ্গে কী অর্জন করা সম্ভব—তা কল্পনা করার মধ্য দিয়ে।

বাংলাদেশে মালয়েশিয়ার হাইকমিশনের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স জনাব হাজওয়ান হাসনোল -এর উষ্ণ বার্তা এই দৃষ্টিভঙ্গিকে আরও উৎসাহিত করেছে। তিনি MBTACN-এর মালয়েশিয়াসংক্রান্ত উদ্যোগে সহযোগিতা ও সমর্থনের আশ্বাস দিয়েছেন।

MBTACN-এর অঙ্গীকার হলো উভয় দেশের সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে সম্মান, উন্মুক্ততা ও অংশীদারিত্বের চেতনা নিয়ে কাজ করা।

লক্ষ্য দেয়াল তৈরি করা নয়, সেতু তৈরি করা।

সহযোগিতাকে একটি খাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা নয়, বরং বহু খাতকে সংযুক্ত করা।

সহযোগিতাকে শুধু প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে সীমাবদ্ধ রাখা নয়, বরং সাধারণ মানুষ, পরিবার, শিক্ষার্থী ও জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছে দেওয়া।

আর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি কোনো গন্তব্য নয়। এটি কেবল শুরু।

মানুষকে সংযুক্ত করা, সংস্কৃতির উদযাপন, পর্যটনে অনুপ্রেরণা

MBTACN-এর গল্প আসলে একটি ব্যক্তিগত যাত্রা কীভাবে একটি প্রাতিষ্ঠানিক দর্শনে রূপ নিতে পারে—তার গল্প।

একজন মানুষের দীর্ঘদিনের মালয়েশিয়া-সম্পর্ক এখন দুই দেশের মানুষের জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরির আকাঙ্ক্ষায় রূপ নিয়েছে।

ভ্রমণকারীর স্মৃতি হয়ে উঠেছে গবেষকের প্রশ্ন।

লেখকের গল্প হয়ে উঠেছে প্রচারকের মিশন।

বন্ধুত্বগুলো হয়ে উঠেছে একটি নেটওয়ার্ক।

আর সেই নেটওয়ার্ক এখন একটি আন্দোলনে পরিণত হওয়ার প্রত্যাশা করছে।

এই দর্শনকে তিনটি সহজ বাক্যে তুলে ধরা যায়—

মানুষকে সংযুক্ত করা

সংস্কৃতির উদযাপন

পর্যটনে অনুপ্রেরণা

আর এই তিনটি স্তম্ভের বাইরে রয়েছে আরও বড় একটি আকাঙ্ক্ষা— আরও শক্তিশালী, গভীর ও প্রাণবন্ত মালয়েশিয়া–বাংলাদেশ বন্ধুত্ব গড়ে তোলা।

যাত্রা শুরু হয়েছে আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকায়।

অডিটোরিয়াম ছিল পূর্ণ, অতিরিক্ত চেয়ারের কোনো জায়গা না থাকায় কয়েকজন অতিথিকে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে, আর পুরো পরিবেশজুড়ে ছিল উষ্ণতা, আনন্দ ও আশাবাদ।

কিন্তু বড় প্রশ্ন হলো—এই নতুন সেতু কতদূর পর্যন্ত পৌঁছাতে পারবে?

দৃষ্টিভঙ্গি সফল হলে এর উত্তর পৌঁছে যেতে পারে শ্রেণিকক্ষ থেকে হাসপাতাল পর্যন্ত, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পর্যটন গন্তব্য পর্যন্ত, আর্ট গ্যালারি থেকে ব্যবসায়িক সম্প্রদায় পর্যন্ত, মালয়েশিয়ার পরিবার থেকে বাংলাদেশের পরিবার পর্যন্ত—

এবং শেষ পর্যন্ত, মানুষ থেকে মানুষে, হৃদয় থেকে হৃদয়ে, বন্ধুত্ব থেকে বন্ধুত্বে।

খালিদ মুহাইমিন
সিনিয়র ফিচার রিপোর্টার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *