
ঢাকায় যথাযোগ্য মর্যাদা ও আবেগঘন পরিবেশে উদযাপিত হলো ‘মহান দেশপ্রেমিক যুদ্ধে’ (Great Patriotic War) বিজয়ের ৮১তম বার্ষিকী (ঢাকা, ৯ মে, ২০২৬)। ঢাকাস্থ রাশিয়ান হাউসএবং বাংলাদেশে নিযুক্ত বাংলাদেশস্থ রুশ ফেডারেশনের দূতাবাস এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ বিশেষ অনুষ্ঠানে ইতিহাস, স্মৃতি, সংস্কৃতি ও মানবিক অনুভূতির এক অনন্য সমন্বয় প্রত্যক্ষ করেন অতিথিরা।
দিনের কর্মসূচি শুরু হয় রুশ দূতাবাস প্রাঙ্গণে ভাবগম্ভীর “অমর রেজিমেন্ট” (Immortal Regiment) শোভাযাত্রার মাধ্যমে। অংশগ্রহণকারীরা তাদের সেইসব পূর্বপুরুষের প্রতিকৃতি বহন করেন, যারা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে আত্মত্যাগ করেছিলেন। পুরো আয়োজনজুড়ে উপস্থিত অতিথিদের বুকে শোভা পায় সামরিক বীরত্বের প্রতীক ‘সেন্ট জর্জ রিবন’ (Ribbon of Saint George), যা দিনটিকে আরও তাৎপর্যমণ্ডিত করে তোলে।
অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক পর্বে স্বাগত বক্তব্য দেন রুশ হাউজের পরিচালক আলেকজান্দ্রা খ্লেভনেই। পরে বক্তব্য রাখেন Rodina Association-এর সভাপতি এলেনা বাস, সোভিয়েত অ্যালুমনাই অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (SAAB)-এর সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম এবং লিবারেশন ওয়ার একাডেমি ট্রাস্টের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ।
সকালের সেশনের মূল আকর্ষণ ছিল বাংলাদেশে নিযুক্ত রাশিয়ার মান্যবররাষ্ট্রদূতআলেকজান্ডার গ্রিগোরিয়েভিচ খোজিন-এর মূল বক্তব্য। । তিনি বিজয় দিবস উপলক্ষে এক বর্ণাঢ্য ‘মটো-অটো র্যালি’র উদ্বোধন করেন। রুশ ও বিজয় দিবসের পতাকায় সজ্জিত গাড়ি ও মোটরসাইকেলের বহর রাজধানীর গুলশান এলাকা প্রদক্ষিণ করে পুনরায় রাশিয়ান হাউসে এসে সমাপ্ত হয়। এই র্যালি যুদ্ধের ইতিহাস ও শান্তির বার্তা নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার এক ব্যতিক্রমী প্রচেষ্টা হিসেবে প্রশংসিত হয়।
পরবর্তী পর্বে রাশিয়ান হাউস-এ অনুষ্ঠিত হয় এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও “স্মৃতি দেয়াল” (Wall of Memory)-এর উদ্বোধন। তরুণ শিল্পীদের প্রাণবন্ত পরিবেশনায় ঐতিহ্যবাহী রুশ নৃত্য ‘কালিনকা’ (Kalinka) দর্শকদের মুগ্ধ করে। পাশাপাশি পরিবেশিত হয় ঐতিহাসিক যুদ্ধকালীন সংগীত, কবিতা এবং আবৃত্তি। বিশেষভাবে আবৃত্তি করা হয় Robert Rozhdestvensky-এর বিখ্যাত “রেকুয়িয়েম” (Requiem) এবং Konstantin Simonov-এর কালজয়ী কবিতা “Wait for Me”।
অনুষ্ঠানের সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্ত ছিল মহান যুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী বীরদের স্মরণে প্রদর্শিত একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিওচিত্র। পরে Rodina Association-এর সদস্যরা যুদ্ধের সময় হারানো স্বজনদের স্মৃতিচারণ করেন এবং স্মৃতি দেয়ালে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে গভীর শ্রদ্ধা জানান।
দিনব্যাপী এই আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে কিংবদন্তি রুশ যুদ্ধকালীন সংগীত—“তেমনায়া নোচ”, “স্মুগ্লিয়াঙ্কা”, “আলিওশা” এবং বিজয়ের অমর গান “দেন পোবেদি” সমবেত কণ্ঠে গাওয়ার মধ্য দিয়ে।
ইতিহাসের প্রতি শ্রদ্ধা, আত্মত্যাগের স্মরণ এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়ের এ আয়োজন কেবল অতীতের বীরত্বগাথাকেই স্মরণ করেনি, বরং বাংলাদেশ ও রাশিয়ার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও সাংস্কৃতিক সেতুবন্ধনকেও আরও দৃঢ় করেছে।
ভ্রমণডেস্ক