
শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকা তাদের নুভেল ভগ অডিটোরিয়ামে একটি বিশেষ চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করে। এই প্রদর্শনীতে স্বতন্ত্র চলচ্চিত্র নির্মাতা এবিএম নজমুল হুদার নির্মিত চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হয়, যা মাতৃভাষার গুরুত্ব ও ভাষাগত বৈচিত্র্যের তাৎপর্য তুলে ধরে।
প্রদর্শনীতে দেখানো হয় প্রামাণ্যচিত্র ‘ম্রো রূপকথা’, যেখানে ম্রো ভাষায় প্রথম সাহিত্যগ্রন্থ প্রকাশের ইতিহাস ও পেছনের গল্প তুলে ধরা হয়েছে। সাংস্কৃতিক গুরুত্বের স্বীকৃতি হিসেবে চলচ্চিত্রটি জাতীয় চলচ্চিত্র অনুদান পেয়েছে। এছাড়া প্রদর্শিত হয় ‘দ্য কনসিকোয়েন্স’, একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য অ্যানিমেশন চলচ্চিত্র, যা ম্রোদের ঐতিহ্যবাহী এক লোকগাথার অবলম্বনে নির্মিত। এটি ম্রো ভাষায় নির্মিত প্রথম অ্যানিমেটেড চলচ্চিত্র এবং ধারণা করা হয়, বাংলা ছাড়া বাংলাদেশে নির্মিত অন্য ভাষার প্রথম অ্যানিমেশন চলচ্চিত্র।
ফেব্রুয়ারী মাস, আমাদের ভাষার মাস। আমাদের আবেগে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে ভাষা আন্দোলনের প্রেরণা। বাংলাদেশের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে ৪১টিরও বেশি ভাষা প্রচলিত রয়েছে, যার মধ্যে কিছু ভাষা বিপন্ন অবস্থায় রয়েছে—যেগুলোর নিজস্ব লিখিত বর্ণমালা নেই অথবা যেগুলোতে খুব অল্প সংখ্যক মানুষ কথা বলে।

ভাষা মানব সভ্যতার অন্যতম শক্তিশালী ও অর্থবহ অর্জন। নির্মাতা আশা প্রকাশ করেন যে এ ধরনের চলচ্চিত্র মাতৃভাষা চর্চা ও সংরক্ষণের বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে এবং মানুষকে এ বিষয়ে আরও দায়িত্বশীল হতে উৎসাহিত করবে। তাঁর বিশ্বাস, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে সম্মান ও সুস্থভাবে লালন করা গেলে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করা সম্ভব।
এবি এম নাজমুল হুদা বাংলাদেশের একজন স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাতা। সমাজবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর গল্প বলার ভিন্ন এক ভাষা খুঁজে নেন তিনি। প্রাতিষ্ঠানিক চলচ্চিত্র শিক্ষার পরিবর্তে বাস্তব অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করেছেন এই নির্মাতা। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে অন্তর্যাত্রা (Homeland), মনপুরা, গেরিলা এবং বাড়ির নাম শাহানা (A House Named Shahana)। তিনি একাধিক টেলিভিশন নাটক ও অনুষ্ঠান রচনা ও পরিচালনা করেছেন, যার মধ্যে উত্তরাধিকার – বাংলাদেশের প্রথম টেলিভিশন রিয়েলিটি শো – বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
ভ্রমণডেস্ক