
মহান রুশ কবি, সাহিত্যিক এবং আধুনিক রুশ সাহিত্যের জনক আলেকজান্ডার পুশকিনের ২২৭তম জন্মবার্ষিকী ও রুশ ভাষা দিবস উপলক্ষে রাশিয়ান হাউস ইন ঢাকা ১৪ জুন ২০২৬ তারিখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অবস্থিত পুশকিনের আবক্ষ ভাস্কর্যের পাশে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, প্রাক্তন শিক্ষার্থী, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিসহ রুশ সংস্কৃতির অনুরাগীরা অংশগ্রহণ করেন।
আলেকজান্ডার সের্গেইয়েভিচ পুশকিন (১৭৯৯–১৮৩৭) রুশ সাহিত্যের ইতিহাসে সর্বাধিক প্রভাবশালী কবি ও সাহিত্যিকদের অন্যতম। তাকে আধুনিক রুশ সাহিত্যভাষার প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে গণ্য করা হয়। তার রচিত বিখ্যাত সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে ইউজিন ওনেগিন, দ্য ক্যাপ্টেনস ডটার, বোরিস গদুনভ এবং অসংখ্য কবিতা, নাটক ও ছোটগল্প। পুশকিনের সাহিত্যকর্ম শুধু রাশিয়াতেই নয়, বিশ্বসাহিত্যের ভাণ্ডারেও বিশেষ স্থান অধিকার করে আছে। তার সৃষ্টিশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধ আজও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সাহিত্যপ্রেমীদের অনুপ্রাণিত করে চলেছে। জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতিক সংস্থা (ইউনেস্কো) এবং রাশিয়ার উদ্যোগে পুশকিনের জন্মদিন ৬ জুন আন্তর্জাতিকভাবে রুশ ভাষা দিবস হিসেবে উদযাপিত হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে আলেকজান্ডার পুশকিনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তার আবক্ষ ভাস্কর্যে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন রাশিয়ান হাউস ইন ঢাকার পরিচালক আলেকজান্দ্রা খ্লেভনই, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আব্দুস সালাম, বাংলাদেশে রাশিয়ান ফেডারেশনের দূতাবাসের প্রথম সচিব আনাস্তাসিয়া নেমোভা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব মডার্ন ল্যাঙ্গুয়েজেস (আইএমএল)-এর ভারপ্রাপ্ত পরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আবসার কামাল।
বক্তারা তাদের বক্তব্যে পুশকিনের সাহিত্যকর্মের চিরন্তন গুরুত্ব, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ও পারস্পরিক বোঝাপড়া বৃদ্ধিতে রুশ ভাষার ভূমিকা এবং রাশিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যে শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতার দৃঢ় সম্পর্কের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বাংলা ভাষায় বক্তব্য প্রদানকালে আনাস্তাসিয়া নেমোভা রাশিয়া ও বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল রুশ ভাষা কোর্সের শিক্ষার্থীদের পরিবেশনা। তারা রুশ ভাষায় পুশকিনের কবিতা আবৃত্তি করেন এবং তার রচনার বাংলা অনুবাদ উপস্থাপন করেন। তাদের পরিবেশনা রুশ ভাষায় দক্ষতা ও রুশ সাহিত্য-সংস্কৃতির প্রতি গভীর আগ্রহের প্রতিফলন ঘটায়। রুশ ভাষা কোর্সের শিক্ষকবৃন্দও অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের উৎসাহ ও দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
এই আয়োজন বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে রুশ ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি ক্রমবর্ধমান আগ্রহকে তুলে ধরে এবং বাংলাদেশ ও রাশিয়ার জনগণের মধ্যে শিক্ষা, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক বিনিময় আরও জোরদার করার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করে। পুশকিনের সাহিত্যিক উত্তরাধিকার এবং রুশ ভাষার বৈশ্বিক গুরুত্ব স্মরণে এ ধরনের অনুষ্ঠান দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সমৃদ্ধ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
ভ্রমণডেস্ক