
বৈশ্বিক পর্যটন নতুন একটি রেকর্ডে পৌঁছেছে। বিশ্বব্যাপী ২০২৫ সালে ১.৫ বিলিয়ন বা ১৫২ কোটি আন্তর্জাতিক পর্যটক আগমন/ভ্রমণ অতীতের সকল রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে। এশিয়া ও আফ্রিকায় শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির ফলে এটি সম্ভব হয়েছে বলে তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে জাতিসংঘের পর্যটন সংস্থা-ইউএন টুরিজম।
স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদভিত্তিক সংস্থাটির সদ্য দায়িত্ব নেওয়া মহাসচিব শাইখা আলনুওয়াইস এক বিবৃতিতে বলেন, পর্যটন সেবায় উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা থেকে সৃষ্ট অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও ২০২৫ সাল জুড়ে ভ্রমণের চাহিদা ছিলো সর্বোচ্চ। তিনি আরও বলেন, বিশ্ব অর্থনীতি স্থিতিশীল থাকার প্রত্যাশা এবং মহামারি-পূর্ব স্তরের তুলনায় পিছিয়ে থাকা গন্তব্যগুলো পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়ানোর ফলে আমরা আশা করছি এই ইতিবাচক প্রবণতা ২০২৬ সালেও অব্যাহত থাকবে।
ইউএন টুরিজম জানায়, গত বছর আন্তর্জাতিক পর্যটক আগমনের সংখ্যা ২০২৪ সালের ১.৪ বিলিয়নের তুলনায় ২০২৫ সালে ৪.০% বেশি ছিল। এটি মহামারি পরবর্তী সময়ের সর্বোচ্চ এবং একটি নতুন রেকর্ড।
মাসভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী ২০২৫ সাল জুড়ে পর্যটকদের ব্যয়ের প্রাথমিক হিসাব বলছে, বৈশ্বিক আন্তর্জাতিক পর্যটন আয় প্রায় ১.৯ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে, যা ২০২৪ সালের তুলনায় ৫% বেশি। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ২০২৫ সালে পর্যটন থেকে মোট রপ্তানি আয় (পর্যটন আয় ও যাত্রী পরিবহনসহ) আনুমানিক ২.২ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার। এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের এই ধারা অব্যাহত থাকলে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি অনুকূল থাকলে, পর্যটন সেবার মূল্যস্ফীতি কমতে থাকলে এবং ভূরাজনৈতিক সংঘাত না বাড়লে ২০২৬ সালে আন্তর্জাতিক পর্যটন ২০২৫ সালের তুলনায় ৩% থেকে ৪% বৃদ্ধি পাবে বলে প্রত্যাশা করছে সংস্থাটি।
এই ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি সর্বশেষ ইউএন টুরিজম কনফিডেন্স ইনডেক্স এবং বিশেষজ্ঞ প্যানেলের জরিপেও প্রতিফলিত হয়েছে।
বিশ্বের বৃহত্তম পর্যটন গন্তব্য অঞ্চল হিসাবে ২০২৫ সালে ইউরোপ ভ্রমণ করেছেন ৭৯৩ মিলিয়ন আন্তর্জাতিক পর্যটক, যা ২০২৪ সালের তুলনায় ৪% বেশি এবং ২০১৯ সালের তুলনায় ৬% বেশি।
আমেরিকা অঞ্চলে ২১৮ মিলিয়ন আন্তর্জাতিক পর্যটক ছিল, যা গত বছর ১% প্রবৃদ্ধি দেখেছে, যদিও উপঅঞ্চলভেদে ফলাফল ছিল মিশ্র।
আফ্রিকায় ২০২৫ সালে পর্যটক আগমন ৮% বৃদ্ধি পেয়েছে, বিশেষ করে উত্তর আফ্রিকায় উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখা গেছে, এই সংখ্যা ছিলো ৮১ মিলিয়ন।
মধ্যপ্রাচ্যে ২০২৫ সালে ৩% প্রবৃদ্ধি হয়েছে, যা মহামারি-পূর্ব স্তরের তুলনায় ৩৯% বেশি, ২০১৯ সালের তুলনায় সবচেয়ে শক্তিশালী ফলাফল।
এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে গত বছর ৬% পর্যটক বৃদ্ধি পেয়েছে, সংখ্যার হিসাবে যা ৩৩১ মিলিয়ন।
০ থেকে ২০০ স্কেলে বিশেষজ্ঞরা ২০২৬ সালের জন্য ১২৬ স্কোর দিয়েছেন, যা পর্যটনের জন্য আরেকটি শক্তিশালী বছরের প্রত্যাশা নির্দেশ করে, যদিও ২০২৫ সালের মূল্যায়ন (১২৯) থেকে সামান্য কম।
তবে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও চলমান সংঘাত ২০২৬ সালে পর্যটনের জন্য উল্লেখযোগ্য ঝুঁকি হিসেবে রয়ে গেছে।
ভ্রমণডেস্ক