
ইতিহাসের বেদনাময় অধ্যায়কে স্মরণ করে এবং শান্তির অমূল্য বার্তাকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে রাশিয়ান হাউস ইন ঢাকা ‘স্মরণ ও শোক দিবস’ উপলক্ষে একাধিক স্মারক কর্মসূচির আয়োজন করেছে। ১৯৪১ সালের ২২ জুন সোভিয়েত ইউনিয়নের ওপর নাৎসি জার্মানির আগ্রাসনের বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে মহান দেশপ্রেমিক যুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী লক্ষ লক্ষ সৈনিক ও বেসামরিক মানুষের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয়।
২১ জুন রাশিয়ান হাউস ইন ঢাকায় অনুষ্ঠিত স্মরণসভায় অংশ নেন শিক্ষার্থী, সোভিয়েত অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (SAAB)-এর সদস্যবৃন্দ, লিবারেশন ওয়ার একাডেমি ট্রাস্টের প্রতিনিধিরা, শিক্ষাবিদ এবং বিভিন্ন অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। আবৃত্তি, সংগীত ও নাট্য পরিবেশনার মধ্য দিয়ে তুলে ধরা হয় যুদ্ধকালীন প্রজন্মের অসীম সাহস, আত্মত্যাগ এবং অদম্য মানবিক শক্তির গল্প।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আবেগঘন পর্ব ছিল “ক্যান্ডেল অব মেমোরি” কর্মসূচি। মোমবাতির আলোয় অংশগ্রহণকারীরা যুদ্ধের সময় প্রাণ হারানো সৈনিক ও সাধারণ মানুষের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। নীরব এই শ্রদ্ধাঞ্জলি যেন ইতিহাসের বেদনাকে বর্তমানের সঙ্গে এক সুতোয় গেঁথে দেয়।
এ উপলক্ষে মস্কোর মিউজিয়াম অব ভিক্টরির প্রদর্শনী “22.06.1941. Tragedy. Courage. Feat.”-এর ভিত্তিতে একটি বিশেষ বক্তৃতারও আয়োজন করা হয়। বক্তৃতায় মহান দেশপ্রেমিক যুদ্ধের প্রথম দিনের ঘটনাবলি এবং সোভিয়েত জনগণের অসাধারণ বীরত্বের ইতিহাস তুলে ধরা হয়।
স্মরণ কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় ২৩ জুন রাশিয়ান হাউস ইন ঢাকা এবং বাংলাদেশে রুশ স্বদেশি সংগঠন “রোদিনা”-এর যৌথ উদ্যোগে তেজগাঁও কলেজে আরেকটি স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা যুদ্ধের মানবিক মূল্য, ইতিহাস সংরক্ষণের গুরুত্ব এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য শান্তির শিক্ষা নিয়ে আলোচনা করেন।
অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে প্রদর্শিত হয় প্রশংসিত রুশ চলচ্চিত্র “ব্রেস্ট ফোর্ট্রেস”, যেখানে যুদ্ধের সূচনালগ্নে ব্রেস্ট দুর্গের বীরত্বপূর্ণ প্রতিরোধের কাহিনি ফুটে উঠেছে। চলচ্চিত্রটি দর্শকদের সামনে যুদ্ধের নির্মম বাস্তবতা এবং মানবিক দৃঢ়তার এক অনন্য চিত্র তুলে ধরে।
দিনটির আরেকটি বিশেষ আকর্ষণ ছিল শিক্ষার্থীদের হাতে তৈরি কাগজের সারস পাখি দিয়ে নির্মিত “ওয়াল অব মেমোরি”। এই প্রতীকী শিল্পকর্ম লাখো শহীদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের পাশাপাশি শান্তি, সহমর্মিতা এবং মানবতার বার্তা বহন করে।
রাশিয়ান হাউস ইন ঢাকার এই আয়োজন কেবল অতীতের ইতিহাস স্মরণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং এটি নতুন প্রজন্মের কাছে শান্তি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, আন্তর্জাতিক বন্ধুত্ব এবং মানবিক মূল্যবোধের গুরুত্ব তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে প্রতিফলিত হয়েছে। ইতিহাসের শিক্ষা ধারণ করে একটি শান্তিপূর্ণ ভবিষ্যৎ নির্মাণের আহ্বানই ছিল এ দিনের মূল বার্তা।
ভ্রমণডেস্ক