
আবু সুফিয়ান, সম্পাদক
মহাবিশ্বে ভাষার সংখ্যা কত? কয়েক লক্ষ? কয়েক কোটি? সঠিক সংখ্যা নির্ণয় করা কঠিন।
মানুষ এবং অন্যান্য প্রাণীকূলসহ মহাবিশ্বে ভাষা সংখ্যার একটি বিবরণ পাওয়া যায় নবী মোহাম্মদ স. এর মে’রাজ থেকে। সেখানে ‘রূহ’ নামক একজন ফেরেশতার সাথে নবীজির সাক্ষাত হয়। যার মাথায় ছিলো এক লক্ষ চেহারা। প্রত্যেক চেহারায় ছিলো এক লক্ষ মুখ। প্রতিটি মুখে ছিলো এক লক্ষ জিহ্বা। প্রত্যেক জিহবায় ছিলো আশি হাজার ভাষা। সেই ফেরেশতা সুমধুর সুরে প্রতিটি ভাষায় মহান স্রষ্টার তসবিহ পাঠ করছিলেন। নিঃসন্দেহে সেই ভাষার মধ্যে বাংলা ভাষাও ছিলো অন্যতম। সুতরাং ‘বাংলা ভাষা’ আসমানের ফেরেশতাদেরও ভাষা। বাংলাভাষি মানুষ হিসাবে আমাদের জন্য এটি আল্লাহ্পাকের অনুগ্রহ।

পৃথিবীতে বাঙালীই একমাত্র জাতি যাদের ভাষা কেড়ে নেয়ার চেষ্টা হয়েছিলো। ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি আপন মাতৃভাষা উদ্ধারে এই জাতির সন্তানেরা জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। সেই ভাষাশহীদ এবং যারা বেচে আছেন তাদের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা। ভাষা নিয়ে এমন নিপীড়ন এবং মহান ত্যাগের ঘটনা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে জাতিসংঘের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ইউনেস্কো ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ২১শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণা করে। পরবর্তিতে ২০০৮ সালে জাতিসংঘ এটিকে স্বীকৃতি দিয়ে বিশ্বময় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে উদযাপনে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে। আক্ষেপের বিষয় হচ্ছে ২১ ফেব্রুয়ারি শহীদ মিনারে পুষ্পমাল্য দেয়ার মধ্যেই মূলত আমাদের ভাষাবিজয়ের অর্জন উদযাপন অনেকখানি সীমাবদ্ধ হয়ে আছে। অথচ টুরিজম ইভেন্ট হিসাবে বিশ্ব দরবারে এটি হতে পারে অতুলনীয় এক উপলক্ষ্য। ইউনিক। পর্যটন দৃষ্টিকোণ থেকে বাংলাভাষার এই বিশ্ব ইভেন্টকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরার জন্য বেশ কিছু কার্যক্রম গ্রহণ করেছে ট্রাভেল ম্যাগাজিন ভ্রমণ।
(আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে খ্যাতিমান লেখক ও টিভি প্রোগ্রাম পরিচালক এবং ভ্রমণ ম্যাগাজিন এর সম্পাদক আবু সুফিয়ান ঐতিহাসিক ২১ ফেব্রুয়রি গানটি জাতিসংঘের ছয়টি ভাষায় উপস্থাপনের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী স্বল্পদৈর্ঘ্য প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ করেন, যা সাংস্কৃতিক পর্যটনের ক্ষেত্রে একটি তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা বহন করে। দেশব্যাপী বিভিন্ন শ্রোাতা-দর্শকের কাছে এটি ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। ভ্রমণ-এর পাঠকদের জন্য ভিডিও লিংকটি এখানে সংযুক্ত করা হলো।)