
ঢাকাস্থ রাশিয়ান হাউসে যথাযোগ্য মর্যাদা, গভীর শ্রদ্ধা ও ঐতিহাসিক চেতনার আবহে উদযাপিত হলো বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫৫তম বার্ষিকী। ৩১ মার্চ ২০২৬ অনুষ্ঠিত এই আয়োজনটি সম্পন্ন হয় মুক্তিযুদ্ধ একাডেমি ট্রাস্ট-এর সহযোগিতায়।
অনুষ্ঠানের সূচনায় মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরে মাইন অপসারণে সোভিয়েত নৌবাহিনীর ঐতিহাসিক ভূমিকার প্রতি জানানো হয় গভীর শ্রদ্ধা—যা স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশ পুনর্গঠনে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদানকালে ঢাকাস্থ রাশিয়ান হাউসের পরিচালক আলেকজান্দ্রা এ. খ্লেভনয় বাংলাদেশ ও রাশিয়ার দীর্ঘদিনের দৃঢ় বন্ধুত্বের কথা স্মরণ করেন। তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় সোভিয়েত ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা এবং স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের উন্নয়নে তাদের ধারাবাহিক অবদানের কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতির বিনিময়ের মাধ্যমে দুই দেশের সহযোগিতা আরও জোরদারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে ড. মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদসহ বিভিন্ন জেলার মুক্তিযোদ্ধা প্রতিনিধিরা তাঁদের বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধ ও পুনর্গঠনে সোভিয়েত ইউনিয়নের অবদানের জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং এই ঐতিহাসিক অংশীদারিত্বের গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেন।
এই আয়োজনে ২০ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং দুইজন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। রুশ শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ড. আবুল কালাম আজাদ মিস খ্লেভনয়কে একটি স্মারক উপহার প্রদান করেন।
অনুষ্ঠানের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল “বাংলাদেশ–রাশিয়া ফ্রেন্ডস অ্যাসোসিয়েশন ফেডারেশন”-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন, যা মিস খ্লেভনয় উদ্বোধন করেন। নবগঠিত এই ফেডারেশনটি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ২০টি সংগঠনকে একত্রিত করে দুই দেশের বন্ধুত্ব ও সহযোগিতাকে আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্য নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে।
ভ্রমণডেস্ক