
সুর, সংস্কৃতি আর তারুণ্যের প্রাণবন্ত মিলনে মুখর হয়ে উঠেছিল নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাস। ৯ এপ্রিল ২০২৬ — রাশিয়ান হাউস ইন ঢাকা, ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাস্যুরেন্স সেল (IQAC) এবং নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই বিশেষ সঙ্গীত সন্ধ্যা রূপ নেয় এক অনন্য সাংস্কৃতিক উৎসবে।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস এবং “রাশিয়ার জনগণের ঐক্যের বছর” উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ৮০০-রও বেশি শিক্ষার্থী ও শিক্ষক অংশ নেন। ফলে পুরো ক্যাম্পাসজুড়ে তৈরি হয় এক প্রাণবন্ত, আন্তঃসাংস্কৃতিক ও শিল্পময় আবহ।
অনুষ্ঠানের সূচনা করেন রাশিয়ান হাউস ইন ঢাকার প্রধান আলেক্সান্দ্রা খ্লেভনে। তাঁর বক্তব্যে তিনি রাশিয়ায় উচ্চশিক্ষার সুযোগ, বিশেষ করে সরকারি স্কলারশিপ (কোটা প্রোগ্রাম), এবং বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত একাডেমিক সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ-রাশিয়া বন্ধুত্বের ঐতিহাসিক ভিত্তি ও ভবিষ্যৎ সহযোগিতার সম্ভাবনাও গুরুত্ব পায় তাঁর বক্তব্যে।


আনুষ্ঠানিক পর্ব শেষে মঞ্চে উঠে আসে “দ্য ঢাকা মেলোডিয়া প্রজেক্ট”—যাদের পরিবেশনায় দর্শকরা ডুবে যান এক সুরময় ভুবনে। পরিবেশিত সঙ্গীত তালিকায় ছিল বিশ্বখ্যাত সুরকারদের কালজয়ী সৃষ্টি—
🎵 দিমিত্রি শোস্তাকোভিচ — Waltz No. 2
🎵 সের্গেই রাখমানিনভ — Vocalise, Op. 34 No. 14
🎵 লোকসঙ্গীত — Korobeiniki (The Peddlers), Kalinka
🎵 আলেক্সেই কোজলোভ ও ব্যান্ড আর্সেনাল — Nostalgia
এর পাশাপাশি জ্যাজ, ফাঙ্ক ও সোল ঘরানার পরিবেশনা সন্ধ্যাকে দেয় আরও বৈচিত্র্যময় রূপ।
ক্লাসিক্যাল ঐতিহ্য ও আধুনিক সুরের অপূর্ব সমন্বয়ে এই আয়োজন হয়ে ওঠে এক স্মরণীয় অভিজ্ঞতা—যেখানে সঙ্গীত কেবল বিনোদন নয়, বরং দুই দেশের সংস্কৃতি ও বন্ধনের এক সেতুবন্ধন হিসেবে ধরা দেয়।
নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির এই সঙ্গীত সন্ধ্যা প্রমাণ করলো—সুরের ভাষা সার্বজনীন, আর তারুণ্যের শক্তিই পারে বিশ্বকে আরও কাছে টেনে আনতে।
ভ্রমণডেস্ক