
জীবন ভ্রমণের কোনো একক সঠিক পথ নেই। কেউ পরিবার নিয়ে সুখী, কেউ একা থেকেই পরিপূর্ণ। কেউ কাজে নিজেকে খুঁজে পায়, কেউ সম্পর্কের মধ্যে। এই ভ্রমণে ভুল হবে, থামতে হবে, আবার নতুন করে চলতে হবে। জীবন আসলে পৌঁছানোর গল্প নয়, চলার গল্প। আর এই চলার মধ্যেই মানুষ ধীরে ধীরে নিজেকে চিনে নেয়। আর এসব নিয়েই আামাদের নিয়মিত আয়োজন জীবন ভ্রমণ..
বিশ্বের সর্বোচ্চ গড় আয়ুর দেশগুলোর একটি জাপানে বন্দিদের প্রায় ১৩% বয়স্ক। তাঁদের অনেকেই কারাগারের ভেতরে আশ্রয় ও খাবার নিশ্চিত করতে ছোটখাটো অপরাধ করেন। ফুকুশিমায় প্রায় সবাই পুনরাবৃত্ত অপরাধী। বয়স্ক বন্দিদের মধ্যে সবাই বারবার অপরাধ করেছে। কেউ দ্বিতীয়বার, কেউ দশমবার এখানে এসেছে। লাইফ ইন্স্যুরেন্স ইনস্টিটিউটের (এনএলআই) আকিও দোতেউচির মতো বিশ্লেষকরা লিখেছিলেন: “যে দেশে প্রবীণরা বাইরে থাকার চেয়ে কারাগারে থাকতে পছন্দ করেন, সে দেশ নিজেকে সুস্থ সমাজ বলে দাবি করতে পারে না।”
আশ্রয়, খাবার ও চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করতে বয়স্ক মানুষেরা ছোটখাটো অপরাধে জড়াচ্ছেন, এমন প্রবণতা বৃদ্ধির ফলে জাপানের কারাগারগুলো ক্রমেই এই বয়সী মানুষের উপযোগী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হচ্ছে, যেখানে শাস্তির চেয়ে সামাজিক পুন-একত্রীকরণ বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে কিছু বিশেষজ্ঞ সতর্ক করে বলছেন, বয়স্ক বন্দিকে রক্ষণাবেক্ষণের খরচ অত্যন্ত বেশি; আর কারাগারকে অবসর-নিবাসে রূপান্তরিত হওয়া একটি গভীর সমস্যার ইঙ্গিত দেয়-দুর্বল হয়ে পড়া সমাজ, যা তার প্রবীণদের যথাযথ সহায়তা দিতে ব্যর্থ।
টোকিওর উত্তর-পূর্বে অবস্থিত ফুকুশিমা কারাগারের সংশোধন চিকিৎসা বিভাগের প্রধান ইয়াসুও নাকাবায়াশি ইএল পাইসকে বলেন, ‘কিছু বন্দির হাঁটার জন্য ওয়াকার লাগে, আবার এমনও ছিল যারা নিজের ডায়াপার বদলাতে পারতেন না। কিন্তু আমাদের প্রধান উদ্বেগ হলো কারাগার থেকে বেরোনোর সময় তাঁদের মানসিক অবস্থা, যেমন ডিমেনশিয়া, যেন আরও খারাপ না হয়। যাদের গুরুতর শারীরিক সমস্যা আছে, তাদের চিকিৎসাসুবিধাসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হয়। কিন্তু মানসিক সমস্যাগুলো আমাদেরই সামলাতে হয়।’
ফুকুশিমা কারাগারটি প্রাদেশিক রাজধানীর কেন্দ্রীয় স্টেশন থেকে ট্যাক্সিতে ১৫ মিনিটের পথ। ২০১১ সালে এখানেই ভূমিকম্প, সুনামি এবং চেরনোবিলের পর ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ পারমাণবিক দুর্ঘটনার ত্রিমুখী বিপর্যয় ঘটে। ১,৬৬,০০০ বর্গমিটার আয়তনের এই কারাগারে ১,৬৫৫ জন বন্দি রাখার সক্ষমতা থাকলেও বর্তমানে সাজা ভোগ করছেন মাত্র ৮৬০ জন, এটি আসলে দেশটির জনসংখ্যা হ্রাসের প্রতিফলন। ৬৫ থেকে ৮০ বছরের ঊর্ধ্বে বয়সী বয়স্ক বন্দির সংখ্যা ২৫ জন (মাত্র ৩%)।
তবে ২০২৪ সালের কারাগার পরিসংখ্যান বলছে, ওই বছর জাপানে নিবন্ধিত ৪০,৫৪৪ জন বন্দির মধ্যে ১৩.৫% ছিলেন ৬৫ বছরের ঊর্ধ্বে। সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে, ৬৫ বছরের বেশি বয়সী বন্দিদের বড় একটি অংশ এমন ছোটখাটো অপরাধ করে কারাগারে এসেছেন, যাতে কিছুদিন ছাদের নিচে থাকা ও গরম খাবার পাওয়া যায়। জাপান সরকারের প্রকাশিত ২০২৪ সালের ‘ক্রাইম হোয়াইট পেপার’ জানায়, প্রবীণ নারীদের করা অপরাধের ৭১% এবং প্রবীণ পুরুষদের ৩৯% ছিল দোকান থেকে সামান্য চুরির ঘটনা।
জাপানের গড় আয়ু বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ। পুরুষদের গড় আয়ু ৮১ বছর এবং নারীদের ৮৭ বছর। শিল্পোন্নত বিশ্বের মধ্যে এটি সবচেয়ে বয়স্ক সমাজ: ২০২৫ সালের সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১২ কোটি ৩০ লাখ জনসংখ্যার ২৯.৪% মানুষই ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী। এ কারণে কয়েক দশক ধরে দেশটি প্রবীণদের জন্য এক বৃহৎ সামাজিক পরীক্ষাগার হিসেবে বিবেচিত।
জন্মহার হ্রাস, শ্রমঘাটতি এবং অভিবাসন উৎসাহিত করতে সরকারের অনীহা, এই সব মিলিয়ে মানুষ অবসর নেওয়া পিছিয়ে দিচ্ছেন এবং প্রবীণদের জন্য খ-কালীন কাজ বাড়ছে। অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করা বহু প্রবীণ এমন পেনশন পান, যা দিয়ে জীবনধারণ সম্ভব নয়; সম্পদের অভাব তাঁদের আরও একাকী করে তোলে।
ফুকুশিমায় প্রায় সবাই পুনরাবৃত্ত অপরাধী। “বয়স্ক বন্দিদের মধ্যে সবাই বারবার অপরাধ করেছে। কেউ দ্বিতীয়বার, কেউ দশমবার এখানে এসেছে,” বলেন নাকাবায়াশি।
দুই প্রহরীর সঙ্গে, উষ্ণ করিডোর ও যান্ত্রিক-ইলেকট্রনিক তালাবদ্ধ দ্বৈত দরজা পেরিয়ে ইএল পাইস একটি কর্মশালায় পৌঁছায়। সেখানে একদল পুরুষ কারও কারও চুল পুরো সাদা, কেউ ওয়াকার ব্যবহার করছেন, কাজ শুরু করতে যাচ্ছেন। প্রহরীরা সতর্ক করে দেন, ছবি তোলা যাবে শুধু গলা থেকে নিচে, বুক থেকে ঝুলে থাকা প্লাস্টিক নামফলক এড়িয়ে। সাদা স্নিকার্সে ছাপা নম্বর কিংবা উজ্জ্বল শিল্প-সবুজ রঙের ইউনিফর্মও দেখানো যাবে না।

জাপানের হিরোশিমায় অবস্থিত ওনোমিচি কারাগার, জাপানের হিরোশিমায় ওনোমিচি কারাগারের এক প্রহরী সংরক্ষণাগারের ছবি। জেরেমি সাটন-হিববার্ট / আলামি স্টক ফটো
আশ্রয়, খাবার ও চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করতে বয়স্ক মানুষেরা ছোটখাটো অপরাধে জড়াচ্ছেন, এমন প্রবণতা বৃদ্ধির ফলে জাপানের কারাগারগুলো ক্রমেই এই বয়সী মানুষের উপযোগী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হচ্ছে, যেখানে শাস্তির চেয়ে সামাজিক পুন-একত্রীকরণ বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে কিছু বিশেষজ্ঞ সতর্ক করে বলছেন, বয়স্ক বন্দিকে রক্ষণাবেক্ষণের খরচ অত্যন্ত বেশি; আর কারাগারকে অবসর-নিবাসে রূপান্তরিত হওয়া একটি গভীর সমস্যার ইঙ্গিত দেয়-দুর্বল হয়ে পড়া সমাজ, যা তার প্রবীণদের যথাযথ সহায়তা দিতে ব্যর্থ।
টোকিওর উত্তর-পূর্বে অবস্থিত ফুকুশিমা কারাগারের সংশোধন চিকিৎসা বিভাগের প্রধান ইয়াসুও নাকাবায়াশি ইএল পাইসকে বলেন, ‘কিছু বন্দির হাঁটার জন্য ওয়াকার লাগে, আবার এমনও ছিল যারা নিজের ডায়াপার বদলাতে পারতেন না। কিন্তু আমাদের প্রধান উদ্বেগ হলো কারাগার থেকে বেরোনোর সময় তাঁদের মানসিক অবস্থা, যেমন ডিমেনশিয়া, যেন আরও খারাপ না হয়। যাদের গুরুতর শারীরিক সমস্যা আছে, তাদের চিকিৎসাসুবিধাসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হয়। কিন্তু মানসিক সমস্যাগুলো আমাদেরই সামলাতে হয়।’
ফুকুশিমা কারাগারটি প্রাদেশিক রাজধানীর কেন্দ্রীয় স্টেশন থেকে ট্যাক্সিতে ১৫ মিনিটের পথ। ২০১১ সালে এখানেই ভূমিকম্প, সুনামি এবং চেরনোবিলের পর ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ পারমাণবিক দুর্ঘটনার ত্রিমুখী বিপর্যয় ঘটে। ১,৬৬,০০০ বর্গমিটার আয়তনের এই কারাগারে ১,৬৫৫ জন বন্দি রাখার সক্ষমতা থাকলেও বর্তমানে সাজা ভোগ করছেন মাত্র ৮৬০ জন, এটি আসলে দেশটির জনসংখ্যা হ্রাসের প্রতিফলন। ৬৫ থেকে ৮০ বছরের ঊর্ধ্বে বয়সী বয়স্ক বন্দির সংখ্যা ২৫ জন (মাত্র ৩%)।
তবে ২০২৪ সালের কারাগার পরিসংখ্যান বলছে, ওই বছর জাপানে নিবন্ধিত ৪০,৫৪৪ জন বন্দির মধ্যে ১৩.৫% ছিলেন ৬৫ বছরের ঊর্ধ্বে। সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে, ৬৫ বছরের বেশি বয়সী বন্দিদের বড় একটি অংশ এমন ছোটখাটো অপরাধ করে কারাগারে এসেছেন, যাতে কিছুদিন ছাদের নিচে থাকা ও গরম খাবার পাওয়া যায়। জাপান সরকারের প্রকাশিত ২০২৪ সালের ‘ক্রাইম হোয়াইট পেপার’ জানায়, প্রবীণ নারীদের করা অপরাধের ৭১% এবং প্রবীণ পুরুষদের ৩৯% ছিল দোকান থেকে সামান্য চুরির ঘটনা।
জাপানের গড় আয়ু বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ। পুরুষদের গড় আয়ু ৮১ বছর এবং নারীদের ৮৭ বছর। শিল্পোন্নত বিশ্বের মধ্যে এটি সবচেয়ে বয়স্ক সমাজ: ২০২৫ সালের সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১২ কোটি ৩০ লাখ জনসংখ্যার ২৯.৪% মানুষই ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী। এ কারণে কয়েক দশক ধরে দেশটি প্রবীণদের জন্য এক বৃহৎ সামাজিক পরীক্ষাগার হিসেবে বিবেচিত।
জন্মহার হ্রাস, শ্রমঘাটতি এবং অভিবাসন উৎসাহিত করতে সরকারের অনীহা, এই সব মিলিয়ে মানুষ অবসর নেওয়া পিছিয়ে দিচ্ছেন এবং প্রবীণদের জন্য খ-কালীন কাজ বাড়ছে। অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করা বহু প্রবীণ এমন পেনশন পান, যা দিয়ে জীবনধারণ সম্ভব নয়; সম্পদের অভাব তাঁদের আরও একাকী করে তোলে।
ফুকুশিমায় প্রায় সবাই পুনরাবৃত্ত অপরাধী। “বয়স্ক বন্দিদের মধ্যে সবাই বারবার অপরাধ করেছে। কেউ দ্বিতীয়বার, কেউ দশমবার এখানে এসেছে,” বলেন নাকাবায়াশি।
দুই প্রহরীর সঙ্গে, উষ্ণ করিডোর ও যান্ত্রিক-ইলেকট্রনিক তালাবদ্ধ দ্বৈত দরজা পেরিয়ে ইএল পাইস একটি কর্মশালায় পৌঁছায়। সেখানে একদল পুরুষ কারও কারও চুল পুরো সাদা, কেউ ওয়াকার ব্যবহার করছেন, কাজ শুরু করতে যাচ্ছেন। প্রহরীরা সতর্ক করে দেন, ছবি তোলা যাবে শুধু গলা থেকে নিচে, বুক থেকে ঝুলে থাকা প্লাস্টিক নামফলক এড়িয়ে। সাদা স্নিকার্সে ছাপা নম্বর কিংবা উজ্জ্বল শিল্প-সবুজ রঙের ইউনিফর্মও দেখানো যাবে না।
বসার আগে বয়স্ক বন্দিরা টেবিল ঘিরে দাঁড়িয়ে জোরে জোরে ১ থেকে ২৫ পর্যন্ত নম্বর বলেন। প্রায় তিন ঘণ্টার সফরে এটিই একমাত্র সময়, যখন পুরো স্থাপনায় সামরিক সুর শোনা যায়।
বসার পর রঙিন কাপড়ে মানবদেহের অঙ্গ আঁকা শিক্ষামূলক অ্যাপ্রন পরা এক মধ্যবয়সী শিক্ষক তাঁদের পরিপাকতন্ত্র সম্পর্কে শেখান। কর্মশালার কাজ প্লাস্টিক ও ধাতব কাপড়ের ক্লিপ জোড়া লাগানো তাঁদের ব্যস্ত রাখার একটি উপায়; সপ্তাহে ছয় দিন, প্রতিদিন এক ঘণ্টা।
বাধ্যতামূলক কাজের অবসান
নাকাবায়াশি জানান, গত বছর দ-বিধির একটি সংশোধনী কার্যকর হয়েছে, যার ফলে বাধ্যতামূলক কারাগার শ্রম বাতিল করে পুনর্বাসন ও শিক্ষায় বেশি সময় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, উদ্দেশ্য পুনরায় অপরাধে জড়ানো কমানো। সংস্কারের ঘোষণা আসার সময় ১৯০৭ সালের পর প্রথমকিয়োদো সংবাদ সংস্থা জানায়, ততদিন পর্যন্ত কারাগারের ব্যবস্থাপনায় পুনরাবৃত্ত অপরাধীর কোনো আলাদা বিবেচনা ছিল না। ফলে নিছক প্রয়োজনের তাগিদে বারবার দোকান থেকে চুরি করা এক প্রবীণ ব্যক্তিও জাপানি মাফিয়া ‘ইয়াকুজা’র সদস্যের মতো একই নিয়মে থাকতেন।
২০২১ সাল থেকে জাপানে আছে ‘একাকিত্ব ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতা’ বিষয়ক একটি মন্ত্রণালয়। জাতীয় পুলিশ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে একা বসবাসকারী ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী ৫৮,০৪৪ জন মানুষকে নিজ বাড়িতে মৃত অবস্থায় শনাক্ত করা হয়েছে, যা বাসাবাড়িতে পাওয়া মোট মৃতদেহের ৭৬%।
একজন সুখী বন্দি
ফুকুশিমার এক বন্দি, যিনি সাক্ষাৎকারে রাজি হয়েছেন এবং ‘এন.’ নামে পরিচিত, বয়স ৬৭ বছর। তিনি সাড়ে চার বছরের সাজা ভোগ করছেন; এরমধ্যে দুই বছর চার মাস বাকি। ওয়াকার ঠেলে প্রহরীর সঙ্গে তিনি কক্ষে প্রবেশ করেন। কর্মকর্তারা জানান, তাঁর কারাবাসের কারণ ছিল “লাইসেন্স ছাড়া অবহেলাজনিত গাড়ি চালনায় মৃত্যু”।
এন. বলেন, তাঁর স্ট্রোক হয়েছিল এবং কিছু সময় মুখ নড়ানো বা হাঁটা সম্ভব হয়নি। পুনর্বাসনের সময় পাওয়া সহায়তার কথা তিনি তুলে ধরেন এবং বলেন, পারিবারিক কারণে পাঁচ ছোট ভাইবোনের দেখভাল করতে গিয়ে তিনি স্কুলে যেতে পারেননি, কারাগার তাঁর জন্য দেরিতে শেখার জায়গা হয়ে উঠেছে। কারাগারে গড়ে ওঠা বন্ধুত্ব নিয়েও তিনি গর্বিত। “শুনতে অদ্ভুত লাগতে পারে, কিন্তু আমি কারাগারে সুখী,” তিনি বলেন।
সমাজে ফিরে যাওয়ার বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি জানান, তাঁর সে ইচ্ছে নেই। “আমি এখানে আছি, কারণ আমি অপূরণীয় ক্ষতি করেছি। আবার সমাজে গিয়ে ঝামেলা বাধানোর কথা ভাবতেই চাই না,” বলেন তিনি। “আমি সৎভাবে বাঁচতে চাই এবং আমার সন্তানদের শেখাতে চাই বন্দিত্বেও শেখা, ভাবা ও বদলানো সম্ভব।”
ব্যর্থ এক ব্যবস্থা
বয়স্ক বন্দিদের সমাজে ফিরতে অনীহাকে কল্যাণ ব্যবস্থার ব্যর্থতা হিসেবে বর্ণনা করেছেন নিপ্পন লাইফ ইন্স্যুরেন্স ইনস্টিটিউটের (এনএলআই) আকিও দোতেউচির মতো বিশ্লেষকরা। বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত দোতেউচি যিনি প্রথম দিকেই বলেছিলেন জাপানের কারাগারগুলো অবসর-নিবাসের মতো হয়ে উঠছে, ২০১৫ সালের এক নথিতে এ বিষয়ে তাঁর সমালোচনামূলক মত সংক্ষেপে লিখেছিলেন: “যে দেশে প্রবীণরা বাইরে থাকার চেয়ে কারাগারে থাকতে পছন্দ করেন, সে দেশ নিজেকে সুস্থ সমাজ বলে দাবি করতে পারে না।”
২০২২ সালে জাপানের কারাগারগুলোর বার্ষিক বাজেট ছিল ১৬৯ কোটি ডলার এরমধ্যে বন্দিপিছু সরাসরি খরচ, কর্মীদের বেতন, অবকাঠামো, বিশেষায়িত চিকিৎসা ও প্রশাসনিক ব্যয় অন্তর্ভুক্ত। সে বছর বন্দি ছিলেন ৪১,৫৪১ জন; ফলে মাথাপিছু বার্ষিক ব্যয় দাঁড়ায় ৪০,৬৭৩ ডলার, অর্থাৎ মাসে প্রায় ৩,৩৯০ ডলার।
জাপানের জাতীয় পেনশন ব্যবস্থায় ৪০ বছর অবদান রাখা একজন ব্যক্তির ন্যূনতম পেনশন প্রায় ৪৪০ ডলার স্বাধীনভাবে বাঁচার জন্য যা যথেষ্ট নয়। ফুকুশিমা কর্তৃপক্ষ ইমেইলে জানিয়েছে, আটক থাকা পেনশনভোগীদের পেনশন পাওয়া বন্ধ হয় না; তবে তারা দুঃখ প্রকাশ করে বলেছে, তাদের কারাগারের ২৫ জন বয়স্ক বন্দির মধ্যে কে কে পেনশন পান তা শনাক্ত করার সক্ষমতা তাদের নেই।
নিজের কক্ষে ফিরতে গিয়ে এন. করিডোরে হাঁটার সময় কাঁপতে থাকেন, ওয়াকারের ওপর ভর দেন। তাঁকে এগিয়ে নেওয়া প্রহরীটি সতর্ক দূরত্বে থাকেন যেন সময়মতো পাশে থাকতে পারেন, যদি তিনি হোঁচট খান..।
গনসালো রোব্লেদো, টোকিও, ০৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬