৮টি ঐতিহ্যবাহী রেস্তোরাঁ ও ক্যাফে, যেগুলোর শুরু ভারতের প্রজাতন্ত্র হওয়ারও আগে থেকে..

১৯৫০ সালে ভারত প্রজাতন্ত্র হওয়ার বহু আগেই, দেশের নানা প্রান্তে ক্যাফে, ডাইনিং রুম এবং ঘরোয়া রান্নাঘর ছিল যেখানে মানুষকে খাবারের সঙ্গে গল্পও পরিবেশন করা হতো। এসব স্থান কেবল টিকে থাকার নিদর্শন নয়; বরং গল্প, স্মৃতি ও বিকশিত স্বাদের ভা-ার। ঐতিহ্যের শিকড়ে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে থাকা এসব প্রতিষ্ঠান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগেও নীরবে সেবা দিয়ে চলেছে এবং বদলে যাওয়া রুচির স্রোতেও টিকে আছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের খাদ্যাভ্যাস ক্রমাগত পরিবর্তিত হয়েছে। ভারতীয় খাদ্যের ইতিহাস ও ঐতিহ্য শুধু বিচিত্রই নয়, বিশ^ব্যাপি আজ সমাদৃত। দেশটির প্রজাতন্ত্র দিবস ও জাতীয় পর্যটন দিবস উপলক্ষ্যে এমন কিছু রেস্তোরার পরিচয় করিয়ে দেবো ভ্রমণ পাঠকদেরকে যা আজও দেশিবিদেশি পর্যটকদের কাছে সমানভাবে আকর্ষণীয় এবং আবেদনময়।

জাতীয় প্রজাতন্ত্র দিবসের ঠিক আগের দিন ২৫ জানুযারি দেশটির জাতীয় পর্যটন দিবস, চলুন প্রজাতন্ত্রের আগেই যাত্রা শুরু করা এবং আজও ভারতের সমৃদ্ধ খাদ্য ও সামাজিক ইতিহাসের জীবন্ত স্মারক হয়ে থাকা এমন কয়েকটি আইকনিক প্রতিষ্ঠানের শিকড়ে ফিরে যাই।

ইন্ডিয়ান কফি হাউস, কলকাতা (স্থাপিত: ১৯৪২)

বঙ্কিম চ্যাটার্জি স্ট্রিটে অবস্থিত এই ক্যাফেটি পুরনো দিনের আবহ পছন্দ করা কফিপ্রেমীদের জন্য আদর্শ। এখানে পাওয়া যায় খাঁটি ফিল্টার কফি, সঙ্গে সুস্বাদু অমলেট, ফিশ কবিরাজি, চিকেন স্যান্ডউইচ ও এগ স্যান্ডউইচ।

করিম’স, পুরান দিল্লি (স্থাপিত: ১৯১৩)

পুরান দিল্লির আকর্ষণ নিয়ে কথা বলতে গেলে করিম’সের সুবাসের কথা না বললেই নয়। ১৯১৩ সালে হাজি করিমউদ্দিন প্রতিষ্ঠিত এই রেস্তোরাঁটি করমা, কোফতা ও বিরিয়ানির জন্য বিখ্যাত। নন-ভেজ প্রেমীদের জন্য এটি অবশ্যই ভিজিট করার মতো। এখানকার বাটার চিকেন বিশেষভাবে জনপ্রিয়-পেঁয়াজ, টমেটো ও কাজু দিয়ে তৈরি মোলায়েম ক্রিমি গ্রেভিতে নিখুঁতভাবে রান্না করা ম্যারিনেটেড চিকেন, ওপর থেকে তাজা ক্রিমের ছোঁয়া।

লিওপোল্ড ক্যাফে, মুম্বাই (স্থাপিত: ১৮৭১)

১৮৭১ সালে ইরানিদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত এই ক্যাফেটি ২০০২ সালের মুম্বাই হামলার পর ব্যাপক পরিচিতি পায়। আজও ২৬/১১ সন্ত্রাসী হামলার গুলির চিহ্ন দেয়াল ও আয়নায় দেখা যায়। এটি একটি মাল্টি-কুইজিন ক্যাফে ও বার-মাটন কিমা, রোস্ট চিকেন, কুং পাও চিকেনসহ নানা পদ এখানে জনপ্রিয়।

শেখ ব্রাদার্স বেকারি, গুয়াহাটি (স্থাপিত: ১৮৮৫)

১৮৮৫ সাল থেকে গুয়াহাটির এই বেকারিটি কেক, পেস্ট্রি ও পাউরুটির জন্য সুপরিচিত। বিশেষজ্ঞদের মতে, সেই সময়ে এই বেকারিই আসামের পশ্চিমা কনফেকশনারির সঙ্গে পরিচয়ের পথ খুলে দেয়। বর্তমানে মেনুতে হটডগ, বার্গার, মিষ্টান্নসহ আরও নানা পদ রয়েছে। তাদের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুও নাকি এই বেকারির চিজ স্ট্র’স খুব পছন্দ করতেন।

ব্রিটানিয়া অ্যান্ড কো., মুম্বাই (স্থাপিত: ১৯২৩)

১৯২৩ সাল থেকে চালু থাকা এই প্রতিষ্ঠানটি বেরি পুলাও, মাটন ধানসাক, ক্রিমি ক্যারামেল কাস্টার্ড, সালি বোটি ও ফিশ পাত্রার জন্য পরিচিত।

মাভল্লি টিফিন রুমস (এমটিআর), বেঙ্গালুরু (স্থাপিত: ১৯২৪)

এমটিআর নামে সুপরিচিত এই খাদ্যকেন্দ্রটি ১৯২৪ সালে পরমপল্লি যাজ্ঞনারায়ণ মাইয়া ও তাঁর ভাইদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত। উপকূলীয় কর্ণাটকের উদুপি রান্নার জন্য এটি বিখ্যাত। প্রতিবেদন অনুযায়ী, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় চালের সংকটে এমটিআর ‘রাভা ইডলি’ উদ্ভাবন করে, যা পরে সারা ভারতে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

ইউনাইটেড কফি হাউস, দিল্লি (স্থাপিত: ১৯৪২)

১৯৪২ সালে প্রতিষ্ঠিত ইউনাইটেড কফি হাউস আজও তার সুস্বাদু খাবার ও নান্দনিক ইন্টেরিয়রের জন্য পরিচিত। ভারতীয় থেকে ওরিয়েন্টাল-সব ধরনের রান্নাই এখানে পরিবেশন করা হয়, যা পরিবার, কূটনীতিক, আমলা ও পর্যটকদের কাছে সমানভাবে জনপ্রিয়। ছোট প্লেট ও স্যুপও এখানে বিখ্যাত-ক্লাসিক মাশরুম স্যুপ থেকে স্প্রিং রোল, সবই একসঙ্গে উপভোগ করা যায়।

দোরাবজি অ্যান্ড সন্স, পুনে (স্থাপিত: ১৮৭৮)

১৮৭৮ সালে সোরাবজি দোরাবজি একটি চায়ের দোকান দিয়ে যাত্রা শুরু করেন, যা পরে রেস্তোরাঁয় রূপ নেয়। আজ এটি ঐতিহ্যবাহী পার্সি ইরানি খাবারের জন্য পরিচিত, যা কাঠকয়লার আগুনে প্রথাগতভাবে রান্না করা হয়। সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হলো-এখানে এখনও পুরনো দিনের মেনু সংরক্ষিত আছে, যেখানে দাম ‘আনা’য় লেখা। নাশতাপ্রেমীদের জন্য রয়েছে নানা ধরনের মাটন ও ডিমের পদ-মাটন লিভার মাসালা, মাটন লিভার ফ্রাই, মাসালা অমলেট, আকুরি, মাটন কাটলেট, মাটন প্যাটিসসহ আরও অনেক কিছু।

ডালিয়া জয়নুদ্দীন, ২৫ জানুয়ারি ২০২৬

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!