
ঐতিহ্যকে অতীতের বোঝা হিসেবে দেখা উচিত নয়; বরং এটি এমন একটি কৌশলগত সম্পদ, যা পর্যটন বিকাশে সহায়ক, সৃজনশীল শিল্পকে এগিয়ে নেয়, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে এবং স্থানীয় ব্যবসা-পরিবেশকে শক্তিশালী করে, এমন মন্তব্য করেছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিম।
প্রধানমন্ত্রীর মতে, আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ উভয় ধরনের পর্যটকের আগমন বাড়াতে ঐতিহ্যবাহী ভবন পুনরুজ্জীবন একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশল।
কুয়ালালামপুরে জালান রাজা সড়কে অবস্থিত সুলতান আবদুল সামাদ ভবনকে উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করে আনোয়ার, যিনি অর্থমন্ত্রীও, বলেন, এই ভবন সংরক্ষণ কেবল নস্টালজিয়া পুনরুজ্জীবনের প্রয়াস নয়; বরং ইতিহাসকে জীবিত রাখা, তা বোঝা এবং ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পথনির্দেশক হিসেবে কাজে লাগানোর উদ্যোগ।
তিনি বলেন, এই উদ্যোগই ‘ওয়ারিসান কেএল’ প্রকল্পের মূল যা সংস্কৃতিনির্ভর নগর অর্থনৈতিক উন্নয়নের অনুঘটক হিসেবে কুয়ালালামপুরের গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলো পুনরুজ্জীবিত করতে সরকারের একটি কৌশলগত প্রয়াস।
সম্প্রতি এই প্রকল্পের প্রথম ধাপ সম্পন্ন হওয়া উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে মালয়েশিয়ার রাজা মহামান্য সুলতান ইব্রাহিম উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপপ্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি ড. আহমদ জাহিদ হামিদি, যোগাযোগমন্ত্রী দাতুক ফাহমি ফাদজিল এবং সরকারের প্রধান সচিব তান শ্রী শামসুল আজরি আবু বকর।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএসএএস সংরক্ষণ প্রকল্পটি ‘ভিজিট মালয়েশিয়া ২০২৬’-এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি উদ্যোগ; কারণ মালয়েশিয়া শুধু তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের জন্যই পরিচিত নয়, বরং ইতিহাস ও সভ্যতার শক্তিশালী বয়ানও দেশের পরিচয় গড়ে তোলে।
তিনি বলেন, ঐতিহ্যবাহী ভবন পুনরুজ্জীবনের উদ্যোগ আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ পর্যটন বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশল হওয়ার পাশাপাশি, ইতিহাস ও মূল্যবোধে প্রোথিত থেকেও আধুনিক ও গতিশীল কুয়ালালামপুর গড়ে তোলার আকাঙ্ক্ষাকে প্রতিফলিত করে।
তিনি বলেন, আমাদের এটিও নিশ্চিত করতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষ এসব স্থাপনা উপভোগ করতে পারে। বিএসএএস সংরক্ষণ এমন একটি প্রাথমিক দৃষ্টান্ত, যা জনগণ দেখতে ও অনুভব করতে পারবে; তবে সংরক্ষণ শুধু কাঠামোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না, ঐতিহ্যবাহী ভবনকে প্রাণবন্ত করে তুলতে হবে।

তিনি বলেন, বিএসএএস-এ কুয়ালালামপুর সিটি গ্যালারি স্থাপন করা হবে, যেখানে পাঁচটি থিমভিত্তিক পরিসরে তিন শতাব্দী জুড়ে ভবনটি ও রাজধানী শহরের যাত্রাপথ তুলে ধরা হবে।
এছাড়া রয়্যাল সেলাঙ্গর গ্যালারিতে পিউটার শিল্পকলা প্রদর্শিত হবে, যা কুয়ালালামপুরের জনগণের অর্থনৈতিক উত্তরাধিকার, সৃজনশীলতা ও উদ্যোক্তা মনোভাবের প্রতিফলন যার শিকড় শহরের টিন খনিশিল্পের ইতিহাসে প্রোথিত। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, এই পুরো ঐতিহাসিক কমপ্লেক্স জাতির পরিচয় বহন করে যাবে একটি এমন দেশ, যা অগ্রসর ও প্রগতিশীল, তবুও ইতিহাসের শিকড়ের সঙ্গে সংযুক্ত; কেবল অর্থনৈতিক শক্তির মাধ্যমেই নয়, বরং আত্মা, মূল্যবোধ ও মানবিকতার মধ্য দিয়েও যার উন্নয়ন ঘটে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মহামান্য সুলতান ইব্রাহিমের উপস্থিতি কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং এটি স্মরণ করিয়ে দেয় যে, জাতির যাত্রাপথ ইতিহাসে নোঙর করা, মূল্যবোধ দ্বারা পরিচালিত এবং সাংবিধানিক রাজতন্ত্রের প্রতিষ্ঠানের দ্বারা সুরক্ষিত।
বিএসএএস-এর নামকরণ করা হয় প্রয়াত সুলতান আবদুল সামাদ ইবনি আলমারহুম রাজা আবদুল্লাহর সম্মানে, যিনি নির্মাণকালে সেলাঙ্গরের শাসক ছিলেন। ভবনটি ১৮৯৭ সালে ফেডারেটেড মালয় স্টেটসের প্রথম ব্রিটিশ রেসিডেন্ট-জেনারেল ফ্র্যাঙ্ক সুইটেনহ্যাম আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন।
১৯৫৭ সালের ৩১ আগস্ট বিএসএএস জাতির জন্মেরও সাক্ষী হয়, যখন শেষবারের মতো ইউনিয়ন জ্যাক পতাকা নামানো হয় যার মাধ্যমে ব্রিটিশ শাসনের অবসান এবং স্বাধীন মালয়ার সূচনা ঘটে।
বারনামা, ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬