
ভিজিট মালয়েশিয়া বা ভিএম-২০২৬ এর মাসকট ‘উইরা’ ও ‘মানজা’
কুয়ালালামপুর থেকে তেরেঙ্গানুতে আসা ফ্লাইটে আগত ৩৯৪ জন যাত্রীকে কুয়ালা নেরুসের সুলতান মাহমুদ বিমানবন্দরে গামেলান সঙ্গীত, সাংস্কৃতিক নৃত্য এবং ভিজিট মালয়েশিয়া বা ভিএম-২০২৬ এর মাসকট ‘উইরা’ ও ‘মানজা’ প্রদর্শনীর মাধ্যমে স্বাগত জানানো হয়। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ‘উইরা’ ও ‘মানজা’ মালয় ভাষার বিশেষ তাৎপর্যবাহী দুটি শব্দ এবং এই শব্দযুগল মালয়েশিয়ার পর্যটন দর্শনের প্রতীক। ‘উইরা’ (Wira) সাহস, আত্মবিশ্বাস ও অগ্রগতির প্রতিনিধিত্ব করে, আর ‘মানজা’ (Manja) তুলে ধরে মালয়েশিয়ার উষ্ণ আতিথেয়তা ও বন্ধুসুলভ সংস্কৃতি। একসঙ্গে তারা ভিজিট মালয়েশিয়া ২০২৬ এর শক্তিশালী, নিরাপদ এবং হৃদয়ছোঁয়া গন্তব্যের বার্তা বহন করে ।

দেশব্যাপি মালয়েশিয়ার বিভিন্ন রাজ্য তাদের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথগুলোতে যেমন বিমানবন্দর, ফেরি টার্মিনাল ও ইমিগ্রেশন কমপ্লেক্স-এ আগগত পর্যটকদের বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে স্বাগত জানানোর মাধ্যমে ভিজিট মালয়েশিয়া ২০২৬ (ভিএম-২০২৬) এর প্রচারণা শুরু করেছে। ১লা জানুয়ারি থেকে আন্তর্জাতিক পর্যটন গন্তব্য হিসেবে দেশের অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় ও সুসংত করাই এই কার্যক্রমের মূল উদ্দেশ্য।
পাহাং-এ, কুয়ানতানের সুলতান আহমদ শাহ বিমানবন্দরে আগত পর্যটকদের স্বাগত জানান রাজ্যের ঐক্য, পর্যটন ও সংস্কৃতি কমিটির চেয়ারম্যান লিয়ং ইউ মান। এ সময় সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও পাহাংয়ের বয়নশিল্পের প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়।
লিয়ং জানান, চলতি বছরে রাজ্যটি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মিলিয়ে ১ কোটি ৫০ লাখ পর্যটক আকর্ষণের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, যেখানে পর্যটন আয় ১৩ বিলিয়ন রিঙ্গিত ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
কুয়ালালামপুর থেকে তেরেঙ্গানুতে আসা ফ্লাইটে আগত ৩৯৪ জন যাত্রীকে কুয়ালা নেরুসের সুলতান মাহমুদ বিমানবন্দরে গামেলান সঙ্গীত, সাংস্কৃতিক নৃত্য এবং ভিজিট মালয়েশিয়া বা ভিএম-২০২৬ এর মাসকট ‘উইরা’ ও ‘মানজা’ প্রদর্শনীর মাধ্যমে স্বাগত জানানো হয়। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ‘উইরা’ ও ‘মানজা’ মালয় ভাষার বিশেষ তাৎপর্যবাহী দুটি শব্দ এবং এই শব্দযুগল মালয়েশিয়ার পর্যটন দর্শনের প্রতীক। ‘উইরা’ (Wira) সাহস, আত্মবিশ্বাস ও অগ্রগতির প্রতিনিধিত্ব করে, আর ‘মানজা’ (Manja) তুলে ধরে মালয়েশিয়ার উষ্ণ আতিথেয়তা ও বন্ধুসুলভ সংস্কৃতি। একসঙ্গে তারা ভিজিট মালয়েশিয়া ২০২৬ এর শক্তিশালী, নিরাপদ এবং হৃদয়ছোঁয়া গন্তব্যের বার্তা বহন করে ।
রাজ্যের পর্যটন, সংস্কৃতি, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন কমিটির চেয়ারম্যান দাতুক রজালি ইদ্রিস বলেন এই প্রচারণার সাফল্য নিশ্চিত করতে রাজ্য সরকার ফেডারেল সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে।
এদিকে, নেগেরি সেম্বিলান ‘ভিজিট নেগেরি সেম্বিলান ২০২৬’-এর সঙ্গে সমন্বয় করে ভিএম-২০২৬-এর স্বাগত কর্মসূচি চালু করেছে।
রাজ্যের পর্যটন, সংস্কৃতি ও শিল্পবিষয়ক অ্যাকশন কমিটির চেয়ারম্যান নিকোল ট্যান বলেন, এই উদ্যোগের লক্ষ্য পোর্ট ডিকসনকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরা।
পোর্ট ডিকসন মিউনিসিপ্যাল কাউন্সিল ও ট্যুরিজম মালয়েশিয়ার সহযোগিতায় পোর্ট ডিকসন টোল প্লাজার সেরেমবানে নানা অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।

ইন্দোনেশিয়ার দুমাই থেকে ফেরিতে করে মেলাক্কাতে আসা ১৬০ জন পর্যটককে মেলাক্কা-দুমাই আন্তর্জাতিক ফেরি টার্মিনালে বিশেষভাবে স্বাগত জানানো হয়। এ আয়োজনে নেতৃত্ব দেন ট্যুরিজম মালয়েশিয়ার প্রশাসন বিভাগের পরিচালক আমিরুল আরিফিন মো. নাসির।
সারাওয়াকে, কুচিং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আগত দর্শনার্থীদের স্বাগত জানান পর্যটন, সৃজনশীল শিল্প ও পারফর্মিং আর্টস বিষয়ক মন্ত্রী দাতুক সেরি আবদুল করিম রহমান হামজাহ।
ঐতিহ্যবাহী সারাওয়াক পোশাকে সজ্জিত স্বাগতিকদের পাশাপাশি ‘উইরা’ ও ‘মানজা’ও অতিথিদের অভ্যর্থনা জানায়। রাজ্যজুড়ে পাঁচটি স্থল প্রবেশপথ ও চারটি বিমানবন্দরেও নানা উদ্যাপন অনুষ্ঠিত হয়।
সাবাহতে, পর্যটন, সংস্কৃতি ও পরিবেশমন্ত্রী দাতুক জাফ্রি আরিফিন রাজ্যপর্যায়ের স্বাগত অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন। এ আয়োজনের মাধ্যমে পর্যটন প্রচার জোরদার করার সূচনা হয়, যেখানে এ বছর রাজ্যটি ৪০ লাখ পর্যটক আগমনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
তিনি ইউনেসকো স্বীকৃত স্থান-মাউন্ট কিনাবালু ও ক্রোকার রেঞ্জসহ সদ্য স্বীকৃত এলাকা সুকাউকে প্রধান আকর্ষণ হিসেবে তুলে ধরেন।
এদিকে, পার্লিসও চলতি বছরে ৪০ লাখ পর্যটক আগমনের লক্ষ্য নিয়েছে, যা গত বছরের ৩৫ লাখের তুলনায় বেশি।
রাজ্যেটির মূখ্যমস্ত্রী মোহদ শুকরি রামলি জানান, ভিএম-২০২৬ প্রচারণাকে সহায়তা করতে ‘ভিজিট পার্লিস ২০২৬’-এর আওতায় ১২টি প্রধান কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।
পেরাক রাজ্যে ভিএম-২০২৬ প্রচারণার আওতায় তিনটি প্রধান পর্যটক প্রবেশপথ নির্ধারণ করা হয়েছে, সেগুলো হলো ইপোর সুলতান আজলান শাহ বিমানবন্দর, ইপোর কেরেতাপি তানাহ মেলায়ু বেরহাদ (কেটিএমবি) রেলস্টেশন এবং পেঙ্গকালান হুলুর বুকিত বেরাপিত আইসিকিউএস কমপ্লেক্স।
রাজ্যের পর্যটন, শিল্প, বিনিয়োগ ও করিডোর উন্নয়ন কমিটির চেয়ারম্যান লো সেজ ই বলেন, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বৈচিত্র্যময় খাবারের সম্ভার তুলে ধরে পেরাক দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যটকদের জন্য ১০০টিরও বেশি আকর্ষণীয় পর্যটন আকর্ষণ তুলে ধরেছে।
তিনি বলেন, আমরা বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে প্রচার জোরদার করছি এবং পর্যটন সংস্থা, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও শিল্পখাতের অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছি, যাতে পর্যটকদের জন্য আরামদায়ক ও উচ্চমানের ভ্রমণ অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করা যায়। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এই প্রচারণা রাজ্যে পর্যটক আগমন বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিকে চাঙা করবে এবং মালয়েশিয়ার শীর্ষ পর্যটন গন্তব্যগুলোর একটি হিসেবে পেরাকের অবস্থান আরও শক্তিশালী করবে।
বারনামা থেকে মুহসীন মুজতবা, ভ্রমণ ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক