‘প্রবলেম সলভ’…

আলী ইমরান

ফেসবুক আমাদের নিত্য জীবনের অনুসঙ্গ। এর মাধ্যমে মানুষ নানা কারণে নিজের স্মরনীয় মুহূর্তগুলো সবার সাথে ভাগাভাগি করে নেয়ার চেষ্টা করেন। ফেসবুক কখনও হয়ে ওঠে প্রতিবাদের হাতিয়ার, কখনও আনন্দের ক্যানভাস, কখনও বেদনার নীল আকাশ। ফেসবুক থেকে পাওয়া যায় বিস্ময়কর নানা তথ্য। ভ্রমণ ম্যাগাজিনে বিভিন্ন সময় পঠকদের দিচ্ছে একটি করে ফেসবুক লিংক। এতে করে পাঠক আনন্দিত হবেন, ভাবিত হবেন, উৎসাহী হবেন ভ্রমণে, মানসভ্রমণে, আত্মপরিভ্রমণে। ভ্রমণ-এ আজ শেয়ার করা হলো আলী ইমরানের লেখা ‘প্রবলেম সলভ’…

আজ সকালে মেট্রোরেলে যাচ্ছিলাম। ভিড় তেমন নেই। সিট একটা ফাঁকা থাকার পরও নারীটা বসলেন না। বড়জোর ২৮/৩০ বছর হবে বয়স।  তার সঙ্গে দাঁড়িয়ে এক কিশোর। কিশোরটা একবার সে নারীর দিকে তাকায় তো আরেকবার চারপাশের মানুষের দিকে তাকায়। একবার বলেই ফেলল, মা এতো চিন্তা কইরো নাতো। কিন্তু নারীটা ঠোঁট ফুলিয়ে ফেললেন। পরিণত মানুষ যখন ঠোঁট ফুলিয়ে কাঁদে বাচ্চাদের মতো তখন ধরে নিতে হয় এই দুঃখ শুধুই দুঃখ নয়। ছেলেটা তার মায়ের হাত চেপে ধরলো। 

আমার স্বভাবজাত অভ্যাস- যেচে গিয়ে কথা বলা। জানি না এই অভ্যাসের কারণে কবে যে বিপদে পড়ি এই শহরে! 

বললাম, এই ছেলে একটু দাঁড়াও। কী হয়েছে বাবা?

ছেলেটা কিছু বলে না। নারীটা শুধু বলল, স্যার আমার চাকরি নাই আর। 

কেন কেন? 

ছেলেটা তখন বলা শুরু করলো কাল আমার আম্মা অফিসের টিভি ভেঙে ফেলছে। এরপর চাকরি থেকে বের করে দিছে তারা। 

নারীটা এবার বললেন, ভাই দেখেন আজ ৭ বছর ধরে চাকরি করি। ঘরে আমার এই ছেলে, আর একটা মেয়ে আছে। এদের বাপ নাই। 

এই চাকরিটা চলে গেল। কী বিপদে যে পড়লাম। আমি স্যাররে কত অনুরোধ করলাম। কিন্তু স্যার শুনলেন না। অবশ্য স্যারের দোষ নাই। আমি এর আগেও ভুল করে অফিসের কিছু জিনিসপত্র ভাঙছি। স্যাররা আমারে অনেকবার সাবধান করেছিল। 

আমি অবাক হলাম, কী সহজ সরল স্বীকারোক্তি। নিজের অপরাধ স্বীকার করে নিলেন তিনি। 

আমি এক ভাইকে কল দিয়ে ডেকে নিলাম। ঘটনা খুলে বললাম। এই মুহূর্তে এই নারীর অফিসে গিয়ে তার স্যারকে অনুরোধ করা ছাড়া উপায় নেই। কারণ দোষ সেই স্যারের নয়। বরং এই নারীরই। আবার তার এই চাকরি চলে গেলে কী বিপদ হবে অনুমান করা কঠিন না। কতই আর বেতন। আট দশ হাজার টাকা। তবুও এটাই তারা দুনিয়ায় চলার রিজিক। 

আমরা সে নারীর সঙ্গে তার অফিসে গেলাম। 

তার সেই স্যারের সঙ্গে দেখা করলাম অনেক অপেক্ষার পর। ভদ্রলোক বেশ অমায়িক। কিন্তু তিনিও নিরুপায়। বললেন, আমার কী করার আছে বলেন। এই মহিলা বারবার এটা ওটা ভাঙবে তার জরিমানা কি অফিস দেবে সবসময়? 

এরপর আরো কিছু বোঝানোর চেষ্টা করলাম। ভদ্রলোক মেনে নিলেন। তিনি কয়েকটা রুমে গেলেন। সম্ভবত আর কারো সঙ্গে কথা বললেন।  মহিলা তার চাকরি ফিরে পেলেন সন্ধ্যায়। 

শর্ত দিলাম, আপনি সামনের মাসের বেতন থেকে কিছু টাকা অফিসে রেখে দেবেন। কিছু শাস্তি হওয়া জরুরি। মহিলা তাতেও রাজি হলেন। বেজায় খুশি হলেন। পারলে জড়িয়ে ধরেন। বললেন, আর ভুল করবো না স্যার। খুব সাবধানে কাজ করবো ইনশাআল্লাহ।  

আজ চমৎকার একটি দিনের দেখা পেলাম। সে মহিলার মুখে হাসি ফুটলো। ছেলেটা তিড়িং বিরিং করছে আনন্দে।  পরিবারটা কষ্টে সিস্টে হোক আগের মতো ধারাবাহিক চলবে। প্লাস এই মহিলার স্যারের মতো মানুষ এখনো আছে ভেবেও ভালো লাগলো যেখানে আমরা অপরিচিত হলেও তিনি আমাদের কথা রেখেছেন সাত পাঁচ না ভেবে। আমরাতো সে মহিলার কেউ হই না। 

আমার ইচ্ছে করছে এমন করে সত্যি যদি একটা একটা করে মানুষের প্রবলেম সল্ভ করতে পারতাম রোজ। কিন্তু হায় সে সক্ষমতা কই। আমি ক্ষমতাহীন, তাই তাদের জন্য আপাতত দোয়া…

https://www.facebook.com/share/1AfyhdEx6r

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!