
বিশ্বের দীর্ঘতম ট্রেন যাত্রায় পর্তুগাল থেকে সিঙ্গাপুর যেতে প্রায় ২১ দিন সময় লাগে। এই যাত্রায় ট্রেনটি ১৩টি দেশের মধ্য দিয়ে চলাচল করে এবং মোট ১১,৬৫৪ মাইল পথ পাড়ি দেয়।
বিশ্ব ভ্রমণ সবসময়ই মানুষের কৌতূহল জাগিয়েছে। ট্রেনে ভ্রমণের বিশেষ আনন্দময় বিষয় হলো গন্তব্যের যাত্রাপথে গ্রামাঞ্চল ও প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখার এক অনন্য সুযোগ পাওয়া যায়। তবে এই ট্রেন যাত্রাটির আরেকটি বিশেষ বৈশিষ্ট হচ্ছে যাত্রীদেরকে যাত্রাপথে একাধিক অসাধারণ স্থানে থামার সুযোগ রয়েছে। এর অন্যতম কারণ হলো একাধিক রেলওয়ে কোম্পানির যৌথ প্রচেষ্টায় এই দির্ঘ ট্রেনযাত্রা সম্ভব হয়েছে, ফলে যাত্রীদেরকে বিভিন্ন দেশের সীমান্ত পেরিয়ে যেতে হয়। পর্তুগালের লাগোস থেকে সিঙ্গাপুর পর্যন্ত ট্রেনে করে এই যাত্রার মাধ্যমে পর্যটক বা যাত্রীকে পশ্চিম গোলার্ধ থেকে পূর্ব গোলার্ধে যাওয়ার এক বিরল অভিজ্ঞতাও প্রদান করে।
বিশ্বের দীর্ঘতম ট্রেন যাত্রায় যাত্রীরা যাত্রা শুরু করবেন পর্তুগালের লাগোস শহর থেকে, যেখানে থেকে তারা প্রথমে দেশটির রাজধানী লিসবনে পৌঁছাবেন। লিসবনের পর ট্রেনটি স্পেনের বাস্ক অঞ্চলে থামে। এরপর যাত্রীরা ফ্রান্স, রাশিয়া, চীন, ভিয়েতনাম এবং থাইল্যান্ড অতিক্রম করে শেষ পর্যন্ত সিঙ্গাপুরে পৌঁছাবেন।
সিঙ্গাপুরে যাওয়ার পথে ট্রেনটি প্যারিস, মস্কো, বেইজিং ও ব্যাংককের মতো অসাধারণ শহরগুলোতে থামবে। পুরো যাত্রার মধ্যে সবচেয়ে দীর্ঘ অংশটি হলো প্যারিস থেকে মস্কো পর্যন্ত ৪০ ঘণ্টার যাত্রা। যাত্রীদের বিশ্রামের জন্য পর্যাপ্ত সময় থাকে, কারণ পথে মোট ১১টি স্টপে রাতযাপনের ব্যবস্থা রয়েছে, যেখানে তারা বিশ্রাম নিতে বা আশপাশ ঘুরে দেখতে পারেন। বিশ্বের এই দীর্ঘতম ট্রেন যাত্রা আইনগতভাবে সম্পন্ন করতে যাত্রীদের সব মিলিয়ে সাতটি ভিসা সংগ্রহ করতে হয়।


এই ট্রেন যাত্রার ভাড়া মোটামুটি ১,৩৫০ ডলারের কাছাকাছি, যা পর্তুগাল থেকে সিঙ্গাপুরের ফ্লাইটের ভাড়ার সঙ্গে তুলনীয়। তবে বিমানে ভ্রমণের তুলনায় ট্রেনে এই যাত্রার জন্য অনেক বেশি পরিকল্পনা প্রয়োজন, কারণ যাত্রীদের আগে থেকেই দেশগুলো থেকে ভিসা নিতে হবে এবং সংযোগকারী ট্রেন ও আসন নির্বাচন ঠিক করতে হয়। ভিয়েতনাম থেকে কম্বোডিয়া এবং মালয়েশিয়া থেকে সিঙ্গাপুরের পথে কিছু অংশে বাসে যাতায়াতের প্রয়োজন হয়।
লাওস থেকে চীন পর্যন্ত নতুন ট্রেনলাইন চালু হওয়াটাই এই দীর্ঘতম ট্রেন যাত্রাকে সম্ভব করেছে। এই উদ্যোগ লাওসের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করবে বলে আশা করা হচ্ছে, কারণ এর মাধ্যমে মানুষ চীন এবং সিঙ্গাপুরে যাতায়াত করতে পারবে।
পর্তুগাল থেকে সিঙ্গাপুর পর্যন্ত ট্রেনে ভ্রমণ করার ধারণাটি বহু দশক ধরে অসংখ্য ট্রেনপ্রেমীর স্বপ্ন ছিল। তাদের প্রচেষ্টা, একাধিক রেলওয়ে কোম্পানির সহযোগিতা এবং লাওস-চীন ট্রেনলাইন চালু হওয়ার ফলেই এটি সম্ভব হয়েছে।
বিশ্বের দীর্ঘতম ট্রেন যাত্রার আগের রেকর্ডটি ছিলো লন্ডন থেকে সিঙ্গাপুর পর্যন্ত। সেই রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে বর্তমানের পর্তুগাল থেকে সিঙ্গাপুর ট্রেন ভ্রমণের অসাধারণ এই সেবা।
ক্রিস্টোফার গোমেজ, গ্রিক রিপোর্টার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫