শিক্ষা কূটনীতিতে বড় পদক্ষেপ: ‘স্বাগত, আপনি নিরাপদ’- বিশ্বজুড়ে শিক্ষার্থীদের জন্য মালয়েশিয়ার বার্তা..

মালয়েশিয়ার উচ্চশিক্ষা মন্ত্রণালয় (MoHE) এবং এডুকেশন মালয়েশিয়া গ্লোবাল সার্ভিসেস (EMGS) কুয়ালালামপুর দেশটির আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর KLIA টার্মিনাল ১-এ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানাতে বিশেষায়িত আগমনকেন্দ্র (ISAC) উদ্বোধন করেছে।

ISAC বিশ্বে এ ধরনের প্রথম উদ্যোগ এবং একটি বিশেষায়িত সুবিধাকেন্দ্র, যা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আগত বিদেশি শিক্ষার্থীদের সবরকম সহায়তা প্রদানের জন্য চালু করা হয়েছে। মালয়েশিয়ার প্রধান আন্তর্জাতিক প্রবেশদ্বারে কৌশলগতভাবে অবস্থিত এই কেন্দ্রটিতে বিদেশি শিক্ষার্থীরা দেশটিতে অবতরণের মুহূর্ত থেকেই একটি সুসংগঠিত ও শিক্ষার্থীবান্ধব ও সহায়ক আগমন অভিজ্ঞতা লাভ করবে। ভিজিট মালয়েশিয়া ২০২৬-এর উদযাপনে এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, বাংলাদেশ থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ সংখ্যক শিক্ষার্থী মালয়েশিয়াতে পড়াশোনা করতে যাচ্ছেন এবং যাবেন, তারাও এই সুবিধাটি উপভোগ করতে পারবেন।

এই কেন্দ্রটি বিদেশি শিক্ষার্থীদেরকে সমন্বিত আগমন সহায়তা প্রদান করবে, যারমধ্যে রয়েছে ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া সংক্রান্ত দিকনির্দেশনা, আগমন-সংক্রান্ত ব্রিফিং, বিমানবন্দর থেকে ক্যাম্পাসে যাতায়াতের তথ্য এবং প্রাথমিক শিক্ষার্থী সহায়তা সেবায় প্রবেশাধিকার। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা যাতে সময়মতো ও সঠিক সহায়তা পান, তা নিশ্চিত করতে EMGS-এর নিবেদিত কর্মীরা ২৪ ঘণ্টা কেন্দ্রটিতে দায়িত্ব পালন করছেন, যা মালয়েশিয়াতে বিদেশি শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে একটি মসৃণ সূচনা নিশ্চিত করতে সহায়ক ভূমিকা রাখে।  KLIA টার্মিনাল ২-তেও ওঝঅঈ সেবা চালু করা হয়েছে।

মালয়েশিয়া যখন বিশ্বজুড়ে শিক্ষার্থীদের আকর্ষণ করে চলেছে, তখন ওঝঅঈ আগমন প্রক্রিয়ার দক্ষতা বৃদ্ধি, শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস জোরদার এবং দেশরূপে মালয়েশিয়া সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। মালয়েশিয়ায় পড়াশোনা করতে আগ্রহী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত সেবা প্রদান এবং ইতিবাচক ও আন্তরিক অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করতে EMGS প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী দাতুক সেরি ড. জাম্ব্রি আবদুল কাদির কখওঅ টার্মিনাল ১-এ এই কেন্দ্রের উদ্বোধন করেন। তিনি বলেন, এই কেন্দ্রটি শিক্ষার্থীরা দেশে অবতরণের মুহূর্ত থেকেই যেন নিজেদেরকে মূল্যবান ও নিরাপদ মনে করে সেই প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন। তিনি যোগ করেন, শিক্ষার্থীরা আমাদের দেশে আসার মুহূর্ত থেকেই আমরা চাই তারা একটি স্পষ্ট অনুভূতি পাক যে তাদের স্বাগত জানানো হচ্ছে, তারা মালয়েশিয়ার জন্য মূল্যবান এবং তারা মালয়েশিয়াতে নিরাপদ। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে মালয়েশিয়ায় ১৬০টিরও বেশি দেশ থেকে আগত ১ লাখ ৫০ হাজারেরও বেশি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে।

মন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি মালয়েশিয়ার শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি বৈশ্বিক আস্থার প্রতিফলন। তিনি কেন্দ্রটিকে একই ছাদের নিচে দক্ষ সেবা, সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা এবং সাংস্কৃতিক সংবেদনশীলতার সমন্বয় হিসেবে বর্ণনা করেন।

এডুকেশন মালয়েশিয়া গ্লোবাল সার্ভিসেস-এর চেয়ারম্যান দাতুক আহমদ শালিমিন আহমদ শাফিয়ে ওঝঅঈ-কে বিশ্বে এ ধরনের প্রথম উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বিশেষ করে ভর্তি মৌসুমের ব্যস্ত সময়ে শিক্ষার্থীদের নির্বিঘ্ন আগমন নিশ্চিত করতে এই কেন্দ্রের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি এজন্য বিশেষ, কারণ এটি বিশ্বে প্রথম যেখানে বিমানবন্দরেই আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের উন্মুক্ত বাহুতে উষ্ণ স্বাগত জানানোর জন্য নিবেদিত একটি কেন্দ্র। তিনি জানান, প্রতিষ্ঠার পর থেকে আগত শিক্ষার্থীদের ৮০ শতাংশেরও বেশি ISAC-এর সেবা গ্রহণ করেছে।

তারা ক্রেগ, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!